এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ ডিসেম্বর : কোনো নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায় এজন্য প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের “ম” ম্যাডাম ধমকাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তবে এই “ম” ম্যাডাম কে তা তিনি খোলসা করেননি । তবে এটা স্পষ্ট যে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে বোঝাতেই শুভেন্দু তার নামের আদ্যক্ষর ব্যবহার করেছেন । শুভেন্দু বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের কথপোকথন লিখিতভাবে পোস্টারের আকারে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় ।
তিনি লিখেছেন,’আমি এসআইআর (SIR) ঘোষণার পর থেকে বিগত এক মাসের ওপর ধরে বলে আসছি যে, ‘সাপের গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড দিয়েছে কমিশন’। আজ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষক ও বাংলাদেশ থেকে আগত ধর্মীয় নিপীড়িত বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু বিরোধী, আপাদমস্তক মিথ্যাবাদী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। না পারছেন এসআইআর (SIR) আটকাতে, না পারছেন অনুপ্রবেশকারীদের পলায়ন রুখতে ! ওনার আজকের কথোপকথনের কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ :-
‘ম’ ম্যাডাম-এর ভার্চুয়াল ডেভেলপমেন্ট রিভিউ মিটিং আজ বিকেল ৪:৩০ থেকে শুরু হয়ে চলে ৫:৩৬ পর্যন্ত। ব্লক স্তর থেকে রাজ্য স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করার সময় উনি বলেন যে :-
“সবাই সকাল থেকে অনেক কষ্ট করে এসআইআর (SIR) এর কাজ করছে আর ওরা চাকরি খাওয়ার থ্রেট দিচ্ছে রাত ৯টার পর ফোন করে।”
“আমি সব জানি।”
“আপনাদের চাকরি জীবন অনেকটাই পড়ে রয়েছে, তাই ভেবেচিন্তে বিবেক নিয়ে এসআইআর (SIR) এর কাজ করবেন।”
“মনে রাখবেন আপনি স্টেটের এমপ্লয়ি (রাজ্য সরকারের কর্মচারী), ওরা চলে যাবে আমরা থাকবো।”
উক্ত মিটিংয়ের কিছু কথোপকথন:-
বিকেল ৫:১৫ : ‘ম’ ম্যাডাম মুর্শিদাবাদের ডিএম-কে – “ফরাক্কা আর ধুলিয়ানের মাঝে যে গন্ডগোলটা হয়েছিল আমি ওখানে যা যা কথা দিয়েছিলাম সব কাজ হয়েছে?”
ডিএম মুর্শিদাবাদ – “হ্যাঁ ম্যাডাম, সব কাজ হয়ে গেছে।”
৫:২০ : ‘ম’ ম্যাডাম মালদার ডিএম-কে “ওখানে বিএসএফ ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, এটা চলবে না।”
৫:২৪: ‘ম’ ম্যাডাম উত্তর ২৪ পরগনার ডিএম-কে “বাংলাদেশ থেকে ২০২৪-এর আগে এলেও এখানে ভোটার যেন না হতে পারে দেখো।”
৫:২৫: ‘ম’ ম্যাডাম দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএম-কে – “থ্রেট দিলে ভয় পাবে না, বিডিওদেরও বলবে।”
“গঙ্গাসাগর দেখে নিও.. এবার কুম্ভ টুম্ভ নেই, ওখানে ভিড় হবে।”
অন্যদিকে বিজেপির চিফ হুইপ ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে 2208 টি বুথে 100 % গণনা ফ্রম ফিলাপ হয়ে ফেরত এসেছে, নির্বাচন কমিশনের সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ এই বুথগুলিতে কোন ভোটার তারা মারা যাননি বা স্থানান্তরিত হননি।এই তথ্য নিশ্চিতভাবে গবেষণার দাবি রাখে যে এই অঞ্চলের মানুষ অমৃত কুম্ভের সন্ধান কিভাবে পেলেন ?
উল্লেখযোগ্য ভাবে এক্ষেত্রেও ভাইপোর ২৪ পরগনা এগিয়ে থেকে তার স্বচ্ছতাকে প্রমাণ করেছেন !
এখন বোঝা যাচ্ছে যে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের এসআইআর নিয়ে এই এত চিল চিৎকার ওদেরকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে অসভ্যতামি থেকে শুরু করে সরকারি বি এল ও দের উপরে চাপ সৃষ্টি করা, IPAC কে দিয়ে ডিজিটালাইজেশন করা এই সব কিছুর পেছনে রয়েছে , মৃত ভোটার, অনুপ্রবেশকারী এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম ভোটার লিস্টে রেখে দেওয়া বাছাই করা বুথগুলিতে।
অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে BLO / ERO যারা ভয় বা ভক্তি মাধ্যমে এই ডাটা টেম্পারিং করা হয়ে থাকলে , তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে ।।

