এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৬ জুলাই : নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের নামে কলকাতার ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর হামলায় ঘটনায় গতকালই ৫ জন “কুখ্যাত ব্যক্তি” র নাম বিধানসভায় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তাদের মধ্যে মেটিয়াব্রুজের মহম্মদ আফরোজ ও গার্ডেনরিচের মহম্মদ আজাদ পশ্চিমবঙ্গে ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু তাদের পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে মেটিয়াব্রুজের মহম্মদ আফরোজের সঙ্গেই তৃণমূল নেতাদের ভিডিয়ো সামনে এসেছে। যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কলকাতা পুলিশের তরফে ১১ জন ধৃতের নাম জানানো হয়েছে। বাকি ৯ জন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হল, জোড়াসাঁকোর ইরফান খুরশিদ (৩০)। ইরফানের বাড়ি জোড়াসাঁকোর ভবানী দত্ত লেনে। আমহার্ট স্ট্রিটের আরশাদ আলি(৫০), তিলজলার মহম্মদ মইনউদ্দিন(২৬),জোড়াসাঁকোর মহম্মদ আলমগির (৪৮), জোড়াসাঁকোর ইমরান আহমেদ(১৯), জোড়াসাঁকোর খালিদ রেজা(৪৭), বেনিয়াপুকুরের জমির আহমেদ(৪২), কড়েয়ার মহসিন খান(৩ এবং কড়েয়ার দীপক ভৌমিককে(৪৮)।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত মিছিলের সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল বিধানসভায় জানান, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডাদমন আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য,’এমন ব্যবস্থা করব, সাত পুরুষ মনে রাখবে।’ তিনি জানান,ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য দেখে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, চিহ্নিত ব্যক্তিদের অনেকেই ছাত্র বা স্বঘোষিত ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য নয় ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধর্মতলার ঘটনায় মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে । তার মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । কয়েকটি মামলা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত বাকি মামলা জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে । এফআইআরে একাধিক বামপন্থী ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর।
পুলিশের দাবি, অনুমতি ছাড়াই ডোরিনা ক্রসিংয়ে জমায়েত করে রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল। বারবার এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। যেকারণে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয় । এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশকর্মী, সাংবাদিক ও আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
কী এই ‘গুন্ডাদমন আইন’?
আইনটির পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’। সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে এই আইন। এই আইন অনুযায়ী, দাঙ্গাকারীকে এক বছর পর্যন্ত আটকে রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে । এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম পর্যন্ত করা হতে পারে।।
