এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,২৬ এপ্রিল : দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের মাত্র ৩ দিন আগেই রাজনৈতিক হিংসা কবলিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে ১০০ টি তাজা বোমা উদ্ধার করল পুলিশ । আজ রবিবার সকালে উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলে গোয়ালিয়া এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত রফিকুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি পিছনের আমবাগানে একটি ব্যাগের মধ্য থেকে বোমাগুলি উদ্ধার হয় বলে জানা গেছে । উদ্ধার হওয়া বোমাগুলির উৎস কী, কারা এই বোমা মজুত করেছিল ও এর নেপথ্যে বড় কোনও কারন আছে কিনা—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ আজ সকালে গোয়ালিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। মূলত একটি নির্দিষ্ট বাড়িকে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সেই বাড়ির পিছনের বাগানে তল্লাশি চালানো হয় । তল্লাশিতেই আমবাগান থেকে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে খুঁজে পায় পুলিশ। সেই ব্যাগ খুলতেই উদ্ধার হয় অন্তত ১০০টি তাজা বোমা। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন তারা ।
প্রসঙ্গত, ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শনিবার গ্রামে ফিরতেই গনরোষ আছড়ে পড়ে তাঁর উপর। চলে বেধড়র মারধর। তদন্তের দায়িত্বে থাকা এনআইএ-র হাতে কালই গ্রেপ্তার হন ওই অভিযুক্ত। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের তার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমান বোমা উদ্ধারের পর তৃণমূল ও আইএসএফের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে । আইএসএফের অভিযোগ,’তৃণমূলের কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি করার উদ্দেশে বোমা মজুত করে রেখেছে।’ তাদের দাবি,’ভোটের আগে বিরোধীদের ভয় দেখানোই তৃণমূলের লক্ষ্য ।’ অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে শাসকদলের দাবি,’তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই আইএসএফ কর্মীরা রাতের অন্ধকারে ওই বাগানে বোমা রেখে গিয়েছে। এখন তার দায় তৃণমূলের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন,’কলকাতা পুলিশ কমিশনার, সমস্ত ডিসিপি, এসপি এবং ওসি ও আইসি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আপনাদের এখতিয়ারের মধ্যে এ ধরনের কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেলে বা কেউ ভয় দেখানোর কৌশল অবলম্বন করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি বলেছেন যে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি ও এলাকাগত আধিপত্য জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য,২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের প্রথম পর্ব ২৩শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২৯শে এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ঠা মে । তার আগে রাজনৈতিক সন্ত্রাস কবলিত ভাঙড়ে নিয়মিত টহলদারি চালাচ্ছে পুলিশ-বাহিনী।।
