এইদিন ওয়েবডেস্ক,পূর্ব মেদিনীপুর,৩১ আগস্ট : রাজ্যে শাসনক্ষমতায় বিজেপি । প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট নিয়ে ২০৮ টি আসনে জয়লাভ করেছে গেরুয়া শিবির । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটা কথা বার বার বলেন যে মূলত হিন্দুদের ভোটেই আজ তারা রাজ্যের শাসনক্ষমতায় এসেছেন এবং মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয়নি । আজ সোমবার এনিয়ে নিজের আদি নির্বাচনী ক্ষেত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের মুসলিম ভোটারদের খোঁচা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটা ভোটও তো আমায় দেননি, আজ বাড়ির টাকা আর আয়ূষ্মান ভারতের কার্ডটা আনন্দ করতে করতে নিয়ে যান ।’
আজ দুপুরে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় আয়োজিত বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’স্বাস্থ্যবীমা পেতে বাকি কেউ নেই৷ যারা আমায় ভোট দেননি, তারাও পেয়ে গেছেন । আড়াই লক্ষ্য আয়ূষ্মান ভারতের কার্ড দেওয়া হচ্ছে । আর যারা আয়ূষ্মান ভারতের কার্ড পেতে গিয়ে নিয়মে আটকে যাচ্ছেন এমন ৮৭ হাজার জনকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার কার্ড দেওয়া হচ্ছে ৷ কেন্দামারী-মহম্মদপুর- সামসাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে একটা ভোটও তো আমায় দেননি । আজ বাড়ির টাকা নিয়ে যান আনন্দ করতে করতে । আর আয়ূষ্মান ভারতের কার্ডটা নিয়ে যাবেন ।’
তিনি বলেন,নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকে ১৮ হাজার ২০০ পরিযায়ী শ্রমিক বাইরে থাকেন । যার মধ্যে ১০ হাজার আবার এমন লোক আছে যারা কোনো দিন আমাকে ভোট দেয়নি । আর নন্দীগ্রাম-২ এ ১২ হাজার আছে । মোট ৩০ হাজার৷ কেউ হায়দ্রাবাদে থাকেন,কেউ ভুবনেশ্বর, কেউ পুনে, কেউ নাগপুরে থাকেন । দর্জির কাজ করেন । আর ভোটের সময় এসে বলেন শুভেন্দুর তো হিন্দুদের পার্টি । ওকে তো ভোট দেওয়া যাবে না ।’
শুভেন্দু বলেন,’ভোট দেননা ঠিক আছে, আমি তো সকলের মুখ্যমন্ত্রী৷ আপনি এবারে নাগপুর,সুরাট, হায়দ্রাবাদ, ভুবনেশ্বরে, সিএমসি ভেলোরে, মুম্বাই টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে, ব্যাঙ্গালোরে, ডঃ রেড্ডির হায়দ্রাবাদে, চন্ডীপুর পিজিআই, দিল্লির এইমস প্রভৃতি সব জায়গায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা পাবেন । এটাই আগের সরকারের সঙ্গে এই সরকারের তফাত ।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ূষ্মান ভারত যোজনার কার্ড চালু করার পর থেকে নন্দীগ্রামে এযাবৎ ১৬ হাজার ৮০০ জন উপকৃত হয়েছে ।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী ৯,৬৬৫ ভোটে জয়ী হন । শুভেন্দু অধিকারীর প্রাপ্ত ভোট ১,২৭,৩০১ । যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১,১৭,৬৩৬ ভোট । নন্দীগ্রামের হিন্দুরা বিজেপিকে এবং মুসলিমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে একচেটিয়া ভোট দেয় বলে দাবি করা হয় ।।
