পহেলগাঁয়ে সন্ত্রাসী হামলায় বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করা হলেও নীরবতা পালন করা বামপন্থীরা ‘অপারেশন সিঁদূর’-এর সময় যখন ব্যাকফুটে পাকিস্তান, তখন কলকাতার রাস্তায় “যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই” দাবিতে কলকাতার রাস্তায় নেমেছিল । ভারত সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত করলে সেই বামপন্থীরা এর বিরোধিতা করে রাস্তায় নামে । অথচ আজ যখন পাকিস্তান যখন ব্যাকফুটে,সেই সময় দু’দেশের সম্পর্ক উন্নত করার দাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন ওই সমস্ত ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের দল। তাদের মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা,কংগ্রেস, বামপন্থী থেকে শুরু করে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা । সেই খোলা চিঠিটিতে মোট ১১৬ জন স্বাক্ষর করেছেন। এঁদের মধ্যে শুধুমাত্র ভারত থেকে রয়েছে ৬১ জন এবং পাকিস্তান থেকে ৫৫ জন রয়েছেন।
তাদের কেউ কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, কেউ কংগ্রেসের, কেউ বামপন্থী । তবে প্রত্যেকেই বিজেপি বিরোধী বলে পরিচিত । যেখানে উল্লেখযোগ্য নাম হল, ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ডঃ ফারুক আবদুল্লাহ, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা । পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য নাম হল : প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস মন্ত্রী তথা বর্তমান এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবির । তারা ভারতকে পাকিস্তানের সমকক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন!
ভারত ও পাকিস্তানের শতাধিক কথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন কূটনীতিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চলমান সংকটের মধ্যেই এই আবেদনটি এসেছে, যেখানে উভয় সরকারই আলোচনা পুনরায় শুরু করা, বাণিজ্য ও পরিবহন সংযোগ পুনরায় চালু করা এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে।
খোলা চিঠিটিতে মোট ১১৬ জন স্বাক্ষর করেছেন। এঁদের মধ্যে ৬১ জন ভারত থেকে এবং ৫৫ জন পাকিস্তান থেকে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রাক্তন প্রধান এ. এস. দুলাত, রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা, পাকিস্তানের প্রাক্তন কূটনীতিক আশরাফ জাহাঙ্গীর কাজী, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণি শঙ্কর আইয়ার এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি।
সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রগ্রেস-এর সভাপতি ও.পি. শাহ-এর সমন্বয়ে ৩০শে জুন তারিখে পাঠানো চিঠিতে উভয় সরকারকে “দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি,সম্পর্ক স্বাভাবিকতা, সংলাপ ও সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের জন্য “অর্থপূর্ণ ও টেকসই পদক্ষেপ” গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের কথায়, “মতপার্থক্য নিরসনের একমাত্র উপায় হলো ধারাবাহিক সংলাপ।”স্বাক্ষরকারীরা হাই কমিশনারদের পুনর্বহাল, স্বাভাবিক ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ব্যাপক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনরায় শুরু করাসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
জানুন ওই ৬১ জন পাকিস্তান প্রেমী ভারতীয় স্বাক্ষরকারী কারা :১) ফারুক আবদুল্লাহ, ২) মিরওয়াইজ উমর ফারুক,৩)মেহবুবা মুফতি,৪) মণিশঙ্কর আইয়ার,৫)প্রফেসর মনোজ ঝা,৬)এ এস ডুলাত,৭)জহর সরকার,৮)মোহাম্মদ ইউসুফ তারিগামি,৯) আগা সঈদ হাসান মোসাভি,১০) সাহিদ সিদ্দিকি,১১)রিতা মানচান্দা,১২)সন্দিপ পান্ডে, ১৩) প্রোফেসর সঈফুদ্দিন সোজ,১৪)আগা সঈদ মুনতাজির মেহেদি,১৫)ইমরান আহমেদ হাসান,১৬) ডঃ জন দয়াল,১৭)ললিতা রামদাস,১৮) হুমায়ুন কবির,১৯)জয়ন্ত ঘোষাল,২০)প্রফেসর অপূর্বানন্দ, ২১)মুজাফফর শা,২৩)দয়া সিং,২৪)এম এম আনসারি,২৫)জাফর মিনহাস,২৬)বিলাল গণি লোন,, ২৭)অরবিন্দ সাহারান,২৮)আই ডি খাজুরিয়া, ২৯) বি এল শরাফ,৩০)এফ আর সুনিল রোসারিও,
৩১)সঈদ ইরফান শের,৩২) ডক্টর মুসলিম ঝা, ৩৩) গোপা মুখার্জি, ৩৪)ডঃ রমেশ রায়না,৩৫) কুমার প্রশান্ত,৩৬)এনডি পাঞ্চোলি,৩৭)প্রহ্লাদ গোয়েঙ্কা,
৩৮)সুভাষ কারলা,৩৯)রিতা চক্রবর্তী,৪০)রুবি অরুণ,৪১)কেএস সুব্রামানিয়াম,৪২)সাজ্জাদ আজহার, ৪৩) বলকার সিং,৪৪)সৈয়দ সেলিম গিলানি,৪৫)বিমল শর্মা,৪৬)মালতী সুব্রামানিয়াম, ৪৭)অনিল হেব্বার, ৪৮)অমিতাভ দত্ত,৪৯) ডঃ সুনিলাম,৫০)সেলিম ইঞ্জিনিয়ার, ৫১)সুজাদা বশীর,৫২)বিনি যাদব,৫৩) রুমান মেকি, ৫৪) তৌশিফ আহমেদ খান,৫৫)সন্তোষ খাজুরিয়া, ৫৬)অ্যাড যশমিন,৫৭)রাকেশ যাদব,৫৮) কুনাল ব্যানার্জি,৫৯)রোহিনী সিং,৬০)সুনীল ওয়াটাল এবং ৬১)ওপি শাহ ।
কিন্তু বাস্তবতা হল যে এই ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই ভারতীয় সংবিধানকে অস্বীকারকারী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে স্থান ভাগ করে নিতে বা পাকিস্তানকে একটু স্বস্তি দিতে দ্বিধা বোধ করেন না। কেউই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের কাশ্মীরি ও নিরীহ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ‘অব্যাহত শত্রুতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখেননি।
তারা কি কখনো পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের কাশ্মীরি ও বেলুচদের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা বন্ধ করতে’ শরিফকে চিঠি লিখবেন ? অবশ্যই লিখবেন না । বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নরসংহার নিয়ে তারা কখনো মুখ খুলবেন না৷ কারন সেটা তাদের পলিটিক্যাল এজেন্ডার সাথে খাপ খায় না ।।
