এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২৯ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ও বিজেপির প্রতি ঘৃণায় কার্যত “উন্মাদের” মত আচরণ করতে শুরু করে দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ! গতকাল ফের একটা ভিডিও প্রকাশ করে তিনি নিজেকে “গর্বিত দিমাগি নকশাল” বলে আখ্যায়িত করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে যুব সম্প্রদায়কে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান । যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে নাসিরুদ্দিন শাহের সমালোচনা হচ্ছে । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরন রিজিজু অভিনেতাকে “ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেছেন ।
পাশাপাশি বলিউডের আর এক অভিনেতা পুণিত ইশার উসকানিমূলক মন্তব্য না করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি ভোটে লড়ার জন্য নাসিরুদ্দিন শাহকে বার্তা দিয়েছেন ।
গতকাল একটি ভিডিও বার্তায় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছিলেন,”হ্যাঁ,আমি গর্বের সঙ্গে বলছি যে আমি দিমাগি নকশাল” । সেই সাথে দেশ বিরোধী শ্লোগান তোলা জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান এবং ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিরতার জন্য সরকারের সমালোচনা করেন । শাহ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করা এবং তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া এই “দমনপীড়ন ভোলা হবে না” ।
তার সেই ভিডিওটি এক্স-এ শেয়ার করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরন রিজিজু লিখেছেন,”আমি ভাবতাম নাসিরুদ্দিন শাহ একজন সাধারণ অভিনেতা। আমি তাকে শ্রদ্ধা করতাম ও পছন্দ করতাম। আমি কখনো জানতামই না যে তিনি একজন ভয়ংকর শহুরে দিমাগী নকশাল!আমি তার আসল চরিত্র সম্পর্কে অনেক দেরিতে জানতে পারলাম। যা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
এর আগে বলিউড অভিনেতা পীযূষ মিশ্রও নাসিরুদ্দিন শাহের সমালোচনা করে পালটা ভিডিও প্রকাশ করেন । পীযূষ মিশ্রের এবার অভিনেতা পুনীত ইসারও নাসিরুদ্দিন শাহের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনিও একই মত পোষণ করেন যে, শাহ একজন হতাশ ব্যক্তি, একজন ‘দিমাগি নকশাল’ যিনি বেছে বেছে কথিত প্রতিবাস করেন। যখন দেশ কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়, তখন তাকে কোথাও দেখা যায় না, কিন্তু যখন ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রশ্ন আসে, তখন তিনিই সবার আগে মুখ খোলেন।
অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ প্রসঙ্গে অভিনেতা পুনীত ইসার বলেন, “প্রথমত, নাসিরুদ্দিন শাহ সাহেব আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ। তিনি আমাদের শিক্ষক, তিনি শ্রদ্ধেয় এবং একজন অত্যন্ত গুণী শিল্পী। কিন্তু আমার একমাত্র বক্তব্য হলো, আপনি যখন কথা বলেন, তখন আপনার বেছে বেছে কথা বলা উচিত নয়। বিশ্ব এবং ভারত সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে আপনি একজন বোবা দর্শকের মতো চুপচাপ বসে থাকেন? আপনি একপাক্ষিক, বামপন্থী এবং নকশালপন্থী দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে আলাদা করে দেখেন এবং সেই আদর্শগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুর জবাব দেন। এই ‘টুকড়ে-টুকড়ে’ গ্যাং এবং জেএনইউ-এর লোকদের দিকে তাকান।”
তিনি আরও বলেছেন,”যখন আমাদের দেশের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী এবং বর্তমানে জেলে থাকা সন্ত্রাসীদের কথা আসে, তখন তারা তাদের মুক্তির কথা বলে এবং তাদের পক্ষে কথা বলে। আপনি যদি এমন লোকদের সমর্থন করেন, তাহলে ভারতীয় হওয়ার অর্থ কী? আপনার মতামত প্রকাশ করার এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসা সরকারকে যদি আপনার পছন্দ না হয়, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আসুন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন, জিতুন এবং এই সরকারকে পরাজিত করুন। এই সরকার যথেচ্ছভাবে ক্ষমতায় আসেনি; এই দেশের মানুষই একে বেছে নিয়েছে এবং নির্বাচিত করেছে…।”
এর আগে বিজেপিকে ‘রক্তাক্ত ঝুঠি পার্টি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ৷ সেই সাথে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যব গণবিক্ষোভের ডাক দেন । মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রাণে বলেছেন, ‘পাকিস্থানের স্ক্রিপ্ট পড়ার জন্য নাসিরুদ্দিন শাহকে বেতন দেওয়া হয় । ওর কোনো কাজ তো নেই । কখন উনি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন সেটা জেনে ওকে সিরিয়াসলি নেওয়ার চেষ্টা করবেন৷’।

