প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৫ সেপ্টেম্বর : দুই থানা এলাকার বাসিন্দা দুই মহিলার নাম-পদবি এক । আশ্চর্যজনক ভাবে দু’জনের আধার নম্বরও এক । এতদিন কেউ কাউকে চিনতেন না । কিন্তু আধার কার্ড ব্যবহার করে একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা অন্যজন তুলে নেওয়ার পর তোলপাড় শুরু হলে দু’জনের পরিচয় হয় ৷ ঘটনার পর নিজের নিজের আধার কার্ড নিয়ে অতান্তরে পড়েছেন দুই মহিলা । নিজের নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রাখা টাকা সামলে রাখাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে ।
জানা গেছে,দুই মহিলার নাম ঝর্না দাস । একজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষের বাদুলিয়া গ্রমে। অন্যজন রায়নার পলাশনের দাসপাড়ার বাসিন্দা। দুজন পৃথক নারী ও পৃথক স্থানের বাসিন্দা হলেন তাদের আধার কার্ড মাথাব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে । কারন দু’জনেরই আধার নম্বর এক । বৃহস্পতিবার খণ্ডঘোষের ঝর্না দাস জানতে পারেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে কেউ ২৭ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে । এমনটা জানার পরেই মাথায় হাত পড়ে যায় খণ্ডঘোষের ঝর্ণার। তিনি তাঁর পাশবই বই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাংক শাখা ও রায়না থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে যা জানতে পারেন তাতে তার চোখ কার্যত কপালে উঠে যায় ৷
খণ্ডঘোষের ঝর্ণা দাস জানতে পারেন,’রায়নার পলাশনে আর এক ঝর্না দাস রয়েছেন। সেই ঝর্নার দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। উনি অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেও অনুদান পাননি। অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা তার একাউন্টে ঢুকেছে কিনা তা জানতে নিজের আধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে রায়নার পলাশনের ঝর্ণা দাস স্থানীয় গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্ণধার শেখ জহিরুলকে নিজের আধার কার্ডটি দেখান ঝর্না। ওই আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের ‘ডিবিটি’ লিঙ্ক ছিল। আধার কার্ড নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে শেখ জাহিরুল জানতে পারেন তাঁর কাছে আসা ঝর্ণা দাসের অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু টাকা জমা হয়েছে। তিনি ১০,১১ ও ১২ জুলাই পর পর তিনদিনে ২৭ হাজার টাকা ওই ঝর্ণা দাসকে তুলে দেন।
এদিকে রায়নার পলাশনের ঝর্ণা দাস টাকা তুলে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেলেও ২৭ হাজার টাকা ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলে নেওয়ার মেসেজ গিয়ে পৌঁছায় খণ্ডঘোষের ঝরনা দাসের ফোন নাম্বারে।সেই মেসেজ পেয়ে ব্যাঙ্কে গিয়ে খণ্ডঘোষের ঝর্ণা দাস দাবি ‘করেন, ‘তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।এমনটা শুনেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়ে টাকা তোলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে নেমে পড়েন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খণ্ডঘোষের ঝর্না দাস জানতে পারেন, টাকা তোলা হয়েছে একটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্র থেকে’।
কিভাবে ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত থাকা তাঁর টাকা তুলে নেওয়া হলো তা জানতে খণ্ডঘোষের ঝর্ণা দাস ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ‘যিনি ২৭ হাজার টাকা তুলেছেন তার নামও ঝর্ণা দাস। আরো জানতে পারেন দুই ঝর্না দাসের আধার নম্বরও এক।’এমন তথ্য সামনে আসার পর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্ণধার শেখ জাহিরুলের কথা মতো রায়না থানায় গিয়ে গোটা ঘটনা সবিস্তর জানান খণ্ডঘোষের ঝর্ণা দাস।
সেই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রায়নার পলাশনের ঝর্নার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পলাশনের ঝর্না পুলিশের কাছে দাবি করেন,’তিনি তাঁর নিজের আধার কার্ড ব্যবহার করেই টাকা তুলেছেন।তবে যে ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উঠেছে সেই একাউন্টটি যে তাঁর নয়, তা তিনি জানতেন না বলে পুলিশকে জানান। এরপরেই সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ দুই ঝর্নাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে গোটা ঘটনা খুলে জানাতে বলে। তারপরেই অদ্ভুত সমস্যার সমাধান হয়।
খণ্ডঘোষের ঝর্না এদিন দাবি করেন, অদ্ভুতভাবে তাঁর আধারের নম্বর এবং রায়নার ঝর্ণা দাসের আধার নম্বর এক । সেই কারণে গন্ডগোল হয়েছে বলে পুলিশ ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন । একই সঙ্গে তিনি এও বলেন,’আমার অ্যাকাউন্ট থেকে খোয়া যাওয়া ২৭ হাজার টাকা ফের আমার ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা পড়েছে বলে শুনেছি। তবে টাকা এখনো হাতে পায়নি। তাই দুশ্চিন্ত আমার এখনো কাটেনি।’।
ছবি : দুই ঝর্ণা দাস । বর্ধমান ।
