এইদিন ওয়েবডেস্ক,ইসলামাবাদ,০৩ অক্টোবর : দেশের বর্তমান অর্থনীতির বেহাল অবস্থা । দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে দেশিবাসীর৷ বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে নিয়ে কোনো রকমে দেশ চলছে । এই পরিস্থিতিতে ভারতকে টেক্কা দিতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান পাঠানোর কথা ভাবছে পাকিস্তান । চীনের সাহায্যে তৈরি এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিন্নাহ-১’৷ ইতিমধ্যে তার প্রটোটাইপ সামনে আনা হয়েছে৷ চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে সন্ত্রাসের আঁতুরঘর পাকিস্তান ।
ওয়ার্ল্ড স্পেস উইক পাকিস্তান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) চেয়ারম্যান মহম্মদ ইউসুফ খান এসব তথ্য জানিয়েছেন৷ তিনি দাবি করেছেন, কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে পাকিস্তানের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে চীনের সহযোগিতায় চন্দ্র অনুসন্ধান ও মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
সুপারকো চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ অভিযানের মাধ্যমে রোভারটি চাঁদে পাঠানো এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সুপারকোর বর্তমান কর্মসূচিতে রোভারটির অভিযান ২০২৮ সালের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। সংস্থাটির আগস্টের ঘোষণাতেও বলা হয়েছিল, চাং’ই-৮-এর সঙ্গে জিন্নাহ-১ উৎক্ষেপণ করা হবে।
দাবি করা হচ্ছে,প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। এর মাধ্যমে চাঁদের মাটি, ভূপ্রকৃতি ও মহাকাশ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষাও চালানো হবে।
সুপারকোর চেয়ারম্যান জানান,পাকিস্তান ইতিমধ্যে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে। ছয়টি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে। তার তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইট নির্ভর দূর অনুধাবন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি সম্পদ, দুর্যোগ পরিস্থিতি, জলসম্পদ ও পরিবেশগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের মে মাসে চীনের চাং’ই-৬ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ‘আইকিউব-কামার’ নামে একটি চন্দ্র স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো স্যাটেলাইট। যদিও এটি চুড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ হয় । এ ছাড়া পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করছে দেশটি। সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণ করা ইও-২ স্যাটেলাইটটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় নিজস্ব পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী স্যাটেলাইট এবং জাতীয় পৃথিবী পর্যবেক্ষণ বহরের ষষ্ঠ স্যাটেলাইট।
চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর লক্ষ্যে দুই পাকিস্তানি প্রার্থী বর্তমানে চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য নির্বাচিত করা হবে।নির্বাচিত ব্যক্তি চীনের মহাকাশ স্টেশনে বৈজ্ঞানিক গবেষণার দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নেবেন।
চীনের মানব মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে চুক্তির আওতায় এ কর্মসূচি শুরু করেছে সুপারকো। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে।রয়টার্সের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিশান আলী ও খুররম দাউদ বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। চলতি অক্টোবরেই তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের কথা রয়েছে।।

