এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ জুন : ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর মূল ষড়যন্ত্রকারী সোহরাওয়ার্দির নাম বদলে পার্ক সার্কাসের এই রাস্তা হচ্ছে মহান গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখার্জির নামে । কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,’গতকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জী-এর নামে ‘গোপাল মুখার্জী রোড’ নামকরণ করার জন্যে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের গৃহীত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিক ভাবে সাধুবাদ জানাই।
এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হয়েছে, যাঁর ভূমিকা বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। আজ সেই অধ্যায়ের সংশোধন করে সাহস, আত্মত্যাগ ও রক্ষকের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জী’কে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো।এখন সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নায়কদের স্মরণ করার, তাঁদের অবদানকে মর্যাদা দেওয়ার এবং ইতিহাসের ভুলগুলো সংশোধন করার।’
যদিও পুরসভার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ফেসবুক পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘সম্ভবত আপনি ‘কলকাতা কিলিং’-এর কথা বলতে চেয়েছেন। এঁর নাম হুসেন সাহিদ সুরাবর্দি। কিন্তু বাস্তব হল, এই বিতর্কিত সুরাবর্দির নামে কিন্তু রাস্তা ছিল না। রাস্তা তাঁর কাকার নামে, তিনি স্যর ডাঃ হাসান সুরাবর্দি। তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পূর্ব রেলের মুখ্য স্বাস্থ্য অফিসার, সামরিক বাহিনীর চিকিৎসক। পরে বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি মূলত কৃতী শিক্ষাবিদ বলে পরিচিত। রাস্তা তাঁরই নামে। তাঁর ভাইপো হুসেন সুরাবর্দি প্রশাসনিক প্রধান হয়ে বিতর্কিত গণহত্যার সঙ্গে জড়ান। রাস্তা তাঁর নামে ছিল না।’ পুরসভা আবার তথ্যপরীক্ষা করুক বলে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধও করেন তিনি।
১৯৩৩ সালে পার্ক সার্কাসের এই রাস্তাটির নাম সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলকাতা পৌরনিগম। ১৯৩৩ সালের ২০ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতা পৌরনিগম জানায়, ১৯৩৩ সালের ৮ মার্চ কলকাতা পৌরনিগমে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পার্ক সার্কাস থেকে কাশিপাড়া লেন জংশন পর্যন্ত যে ১০০ ফুট নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, তার নাম রাখা হবে সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ। রাস্তাটি তৈরি করেছে ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই রাস্তাতেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যর হাসান সোহরাওয়ার্দির বাড়ি । কিন্তু ১৯৪৬ সালে হিন্দু গনহত্যার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হল তার ভাইপো হুসেন আলি সোহরাওয়ার্দি । সেই সময় হিন্দুদের একজোট করে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখার্জি । বউবাজারের মলঙ্গালেন নিবাসী গোপালদের একটি পারবারিক পাঁঠার দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় তিনি একজন কসাই ছিলেন । সেই জন্য তাঁকে গোপাল পাঁঠা বলা হত। স্বাধীন ভারতে কংগ্রেস,সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বকালে উপক্ষিত ছিলেন গোপাল মুখার্জি । বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ওই মহান মানবকে যোগ্য সম্মান দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় ।।
