এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২২ জুন : অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করার পর রবিবার এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে বলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে। অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের তথ্য থেকে দেখা গেছে, আগের দিন ২৬টি জাহাজ দেখা গেলেও রবিবার প্রণালীটি দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ অতিক্রম করেছে।এগুলোর মধ্যে ছিল তিনটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, যেগুলোর প্রতিটিতে ২০ লক্ষ ব্যারেল সৌদি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল ছিল এবং সেগুলোর মধ্যে একটি জাপানের দিকে যাচ্ছিল।যেসব জাহাজ উপসাগরে ভ্রমণের সময় তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে রাখে, সেগুলোকে এই ডেটা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
শান্তি আলোচনার সুযোগ করে দিতে এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি ৬০ দিনের জন্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হওয়ার পর ইরান গত সপ্তাহে প্রণালীটির ওপর থেকে তার কার্যকর অবরোধ তুলে নিয়েছিল, কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর শনিবার জলপথটি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও চলাচল করছে।
শনিবার প্রণালীটি ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল বহনকারী ভিএলসিসি এবং বিভিন্ন তেলজাত পণ্য বহনকারী তিনটি ট্যাংকার । তথ্য থেকে দেখা গেছে, শনিবার দুটি ভিএলসিসি সহ মোট ১৩টি জাহাজ প্রণালীটিতে প্রবেশ করেছে।উপসাগরীয় উৎপাদক সংস্থা আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন হরমুজ প্রণালীর ভেতর ও বাইরে থেকে তেল বোঝাই করার বিকল্পসহ অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র- ইরান আলোচনার এই পর্বের প্রধান দুই মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এক যৌথ বিবৃতি জারি করেছে । সেই বিবৃতি অনুসারে, আলোচনার বর্তমান পর্ব এখন শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষ একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, যা সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা এবং একটি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গোষ্ঠীর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধকারী ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং অন্যান্য বিষয় সমন্বয় করবে।এছাড়াও, ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি সমন্বয় করার জন্য একটি সংঘাত নিরসনকারী গোষ্ঠী গঠন করা হবে, যা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধের একটি প্রধান বিষয়।
কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতি অনুসারে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেবাননের সাথে একটি ‘সংঘাত নিরসন সেল’ গঠন করতে সম্মত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো ‘সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা’।
একজন মার্কিন কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, রবিবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম দিনে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ওপর আলোকপাত করা হয়। কূটনীতিকের মতে, সুইজারল্যান্ডে আলোচনা সকালে শুরু হয়ে সারাদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে “প্রায় বিরতিহীনভাবে” চলেছে।ওই কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন,“আজকের আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে তাতে চারটি পক্ষই সন্তুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে বিষয়গুলো সমাধানে সাহায্য করছেন। আমরা মনে করি, আলোচনার এই প্রাথমিক পর্বটি ভবিষ্যতে আস্থা তৈরির জন্য আমাদের প্রস্তুত করছে” ।
তবে, আইআরজিসি -সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুসারে , মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “হুমকি ও অপমানজনক মন্তব্যের” কথা উল্লেখ করে ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনা চলাকালীন ওয়াকআউট করে এবং আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়।তাসনিমের উদ্ধৃত একটি সূত্র অনুসারে , ৯০ মিনিটের আলোচনা পর্বের পর আধা ঘণ্টার জন্য আলোচনা স্থগিত করা হয়েছিল, যার পরে ইরানি কর্মকর্তারা ফিরতে অস্বীকৃতি জানান।।
