এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ সেপ্টেম্বর : রাজ্যে পালাবদলের পর “বাম বনাম রাম”-এর লড়াই জমে উঠেছে । কারন, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিল, ততদিন কার্যত শীতঘুমে ছিল সিপিএম । কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সরকার আসার পর থেকে তারা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে । পুরনো এজেন্ডাকে সামনে রেখে শুরু করেছে তাদের প্রচার । পালটা হিন্দুত্ববাদকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে শাসকদল গেরুয়া শিবির । শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মীয় পূজাবার্বগুলি । তারই পরম্পরায় শুক্রবার রাজ্য জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উৎসব । হাওড়ার লিলুয়ায় জন্মাষ্টমী উদযাপন অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর ধামের মহারাজ কথাবাচক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেছেন,’এই দেশ আকবরের নয় রঘুবরের দেশ ।’ পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে৷’
শুক্রবার হাওড়ার লিলুয়ার আয়োজিত ‘শ্রী হনুমান কথা ও দিব্য দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারারীর উপস্থিতিতে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেন, “এই দেশ আকবরের নয়,রঘুবরের দেশ । একটা সময় ছিল যখন এখানে বাবরের নামে কিছু তৈরি করা হচ্ছিল । এবার যা কিছু তৈরি হব সেগুলো হবে রঘুবরের নামে”৷ তিনি মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবিরের “বাবরি মসজিদ” তৈরির উদ্যোগকে ইঙ্গিত করে বলেন,’একটা সময় ছিল যখন এখানে বাবরের নামে কিছু তৈরি করা হচ্ছিল । কিন্তু এরপর থেকে এখানে যা কিছু হবে তা সব রঘুবরের(শ্রীরাম) নামে হবে ।’ তিনি আরও বলেন,”দাদার(মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী) হিন্দুত্বের উপর পুরো বিশ্বাস আছে যে, পশ্চিমবঙ্গ গেরুয়া ময় তো হল এবার রামময় হবে । পশ্চিমবঙ্গে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে ।”
ধর্মান্তরিতদের ফিরয়ে আনতে (ঘর বাপসি) উদ্যোগী হওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী । সেই সাথে তিনি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে লাগাতার তাঁর “দরবার”-এর আয়োজন করা আহ্বান জানান । মুখ্যমন্ত্রীও ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীকে এরাজ্যে আরও বেশি দরবার করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে খ্রিস্টান মিশনারিরা ব্যাপক ধর্মান্তরিত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠছে । জায়গায় জায়গায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রুখে দাঁড়ালে পুলিশ পদক্ষেপও নিচ্ছে। অভিযোগ যে, টাকার ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মূলত দরিদ্র হিন্দুদের ধর্মান্তকরণের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে । এই কারনে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার দাবি উঠছে । এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীও এই আইন আনার বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।।
