প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৮ এপ্রিল : বঙ্গে বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁঝ ততই বাড়াচ্ছে তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে আজ শনিবার নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে সেই ঝাঁঝ আরো তীব্র করলেন দলের সেকেণ্ড ইন কমাণ্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন কড়া ভাষায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘কালকে দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল,সংবিধান পাল্টাতে চেয়েছিল ।আমরা করতে দিই নি। ভারতবর্ষের বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে ওদের ডিলিমিটেশন বিল আটকে দিয়েছে ।’ একই সাথে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন,’তপশিলিদের উপর অত্যাচারে ’গোল্ড মেডেল’ বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার।’
জামালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধায় যে বেশ গর্বিত,সেটা তিনি তাঁর বক্তব্যের মধ্যেই তুলে ধরেন । তিনি বলেন,’তৃণমূল কংগ্রেস এখানকার ভূমিপুত্র , এখানকার মানুষের সর্বক্ষণের সঙ্গী ভূতনাথ মালিককে প্রার্থী করেছে।জেতার পর ভূতনাথ এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত রাত বিরেতে মানুষের বিপদে আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুটে বেড়াতে পারবে। বয়সে কম, অত্যন্ত তরুণ নবীন ছেলে ভূতনাথ। তাকে জেতান, আগামী দিনে জামালপুরের উন্নয়নে কোন খামতি থাকবে না। অভিষেক এও বলেন,ভূতনাথ মালিক বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। বর্তমানে গৃহ শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিরন্তর ভাবে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন । তিনি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে দুবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। প্রথমে ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পূর্ত কর্মদক্ষ।২৩ থেকে ২০২৬ ,এখন তিনি রয়েছেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি -সভাপতি পদে।আর এখন দল তাকেই জামালপুর বিধানসভার প্রার্থী করেছে।
নিজের দলের প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিজেপি প্রার্থী অরুন হালদারকে এদিন নানা সমালোচনায় বিদ্ধ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন,বিজেপির প্রার্থী জামালপুর বিধানসভার বাসিন্দা নন। এলাকার সাথে তার কোন সংযোগ নেই। এলাকার মানুষকে চেনেন না,কোন পঞ্চায়েত চেনেন না।তাকে বহিরাগতদের তল্পিবাহক ক্রীতদাস বলা যেতে পারে। অভিষেক আরো জানান,জামালপুরে বিজেপি প্রার্থীর জন্ম জৌগ্রামে হলেও তিনি থাকেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বিটি রোডে। বিজেপি প্রার্থী অরুণ হালদার তপশিলি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তপশিলিদের উপর ধর্ষণ, খুন ,অত্যাচার যদি সব থেকে বেশি কোন রাজ্যে হয়ে থাকে সেই রাজ্যের নাম উত্তর প্রদেশ। তারপরে রয়েছে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ। এই তিনটেই বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার।অরুণ বাবুকে বলবো,যদি ন্যূনতম মনুষ্যত্ব এবং বিবেকবোধ থাকে পদ্মফুলের প্রার্থী হয়ে জামালপুরের মানুষের কাছে ভোট চাইতে আসার আগে আগে বিজেপি ছেড়ে তপশিলি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সৎ সাহস দেখাবেন। তারপর মানুষের কাছে ভোট চাইবেন।অভিষেকের কথায়, তপশিলিদের ওপর অত্যাচারে গোল্ড মেডেল ,সিলভার মেডেল ও বব্রোঞ্চ মেডেল বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার।
তৃণমূল সরকারের রাজত্বে জামালপুর বিধানসভায় হওয়া উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,এখানে পথশ্রী,রাস্তাশ্রীতে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার রাস্তা গত দু বছরে হয়েছে। ২৮৭ টা রাস্তা নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ এবং সংস্কার হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪০৫ কিলোমিটার রাস্তার জন্য খরচ হয়েছে ১৩৮-১৩৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে দশ পয়সার অবদান কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।এসব ছাড়াও জামালপুর বিধানসভা এলাকায় তিনশোটির বেশি ঠান্ডা পানীয় জলের আউটলেট করা হয়েছে পথ চলতি মানুষের সুবিধার্থে। বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় কমিউনিটি হল তৈরি করা ও সোলার লাইট লাগানো হয়েছে।একই সাথে তিনি জামালপুরের নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন,সবথেকে বড় বহুমুখী হিমঘর আগদিন মা মাটি মানুষের সরকার জামালপুরে তৈরি করবে।এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা,এটা আমাদের শপথ।
আগের বিধানসভা গুলির চাইতে এবারের বিধানসভা ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ তার ব্যাখ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,এবারের নির্বাচন শুধু বিজেপিকে হারানোর নির্বাচন নয়,তৃণমূলকে জেতানোর নির্বাচনও নয়। এবারের নির্বাচন হল,যাঁরা আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে,আমাদের বাংলাদেশী বলেছে,রোহিঙ্গা বলেছে,বাংলা ভাষা বললে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে,তাঁদের লেজে গোবরে করে উচিত শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। এদের করায়গন্ডায় লেজে গোবরে করে এমন ভাবে জবাব দিতে হবে যাতে ৪ তারিখ ভোট বাক্স খুললেই পদ্মফুলে নেতারা যেন চোখে সরষে ফুল দেখে। চারিদিকে যেন তৃণমূল আর তৃণমূল হয়।।
