এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ জুলাই : ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর লড়াই চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে । ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা দলে ভারী হওয়ায় খোদ তৃণমূলের স্রষ্টা মমতা ব্যানার্জি এখন কার্যত কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন । আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত গোষ্ঠীর ‘আসল তৃণমূল’ কলকাতা মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর লড়াই এখন কার্যত রাস্তায় নেমে এল । একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় দখল মমতা ব্যানার্জির হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর শোরগোল পড়ে গেছে বঙ্গ রাজনীতিতে ।
আজ সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক বিধায়করা দল বেঁধে এসে কলকাতার মেট্রোপলিটনে তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে ঢুকে পড়েন । বাইরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ভেতরে একপ্রস্থ বৈঠকও সারেন তাঁরা। এদিকে কুণাল ঘোষ, মদন মিত্ররা দলবল নিয়ে সেখানে ছুটে আসেন । কিন্তু তারা ঋতব্রতদের লাগানো তালা ভেঙে কার্যালয়ের পুণঃদখল নেওয়ার আগেই বিশাল পুলিশবাহিনী এসে তাদের রুখে দেয় । শেষ পর্যন্ত পুলিশের পরামর্শে এনিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে ছোটেন কুণাল- মদনরা । হতাশ কুণাল বলেন,’আমাদের নিজেদের বাড়িতেই পুলিশ ঢুকতে দিচ্ছে না । পুলিশ ওদের হয়ে কাজ করছে ।’
‘আসল তৃণমূল’-এর মুখপাত্র আখরুজ্জামান বললেন,’আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই অফিসটা আমাদের।’ এই কার্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দলের আবেগ ও ইতিহাস, তাই এর রাশ নিজেদের হাতে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি । হরিরমপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব মিত্র বললেন, “দুটো তৃণমূল কেন যদি ভাবে তাহলে দুটো তৃণমূল, নাহলে তো তৃণমূল একটাই”। আবার জাভেদ খান বললেন,’আমরা দখল করতে আসিনি, আমাদের অফিসে আমরা বসতে এসেছি ।’ উল্লেখ্য, যে সময় তৃণমূল ভবনের বাইরে এসে পৌঁছান ফিরহাদ, ঋতব্রতরা; তার কিছুক্ষণ আগেও তৃণমূল ভবনের ভিতরে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এদিকে পার্টি অফিস দখলের খবর কানে যেতেই কুণাল ঘোষ অনুগামীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন । যদিও কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি । সমগ্র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান কুণাল । প্রসঙ্গত, গতকালই ঋতব্রত গোষ্ঠীর ১০ জনের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নথি জমা করে আসেন । এখন কে ‘আসল’ আর কে ‘নকল’ তা নির্ধারন করবে কমিশন । তার আগেই ঋতব্রত গোষ্ঠী আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের দখল নিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’কে অনেকটা ব্যাকফুটে ফেলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল ।।
