এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ মে : বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুন হয়েছেন। তাঁর এই হত্যাকাণ্ড বাংলার রাজনৈতিক হিংসার দীর্ঘ ও বিতর্কিত ইতিহাসকে আবারও সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে বাংলায় নিয়মিত হিংসার ঘটনা ঘটলেও, মমতা ব্যানার্জীর সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া হিংসা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০২১ সালে, যখন হিন্দুত্ববাদী যুবক দেবাশিস আচার্য রহস্যজনকভাবে মারা যান। দেবাশিস সেই ব্যক্তি, যিনি ২০১৫ সালে টিএমসি সাংসদ এবং মমতা ব্যানার্জীর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীকে চড় মেরেছিলেন। কারন অভিষেক সনাতন ধর্ম নিয়ে কটু মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ । আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়েই প্রকাশ্য মঞ্চে উঠে অভিষেককে সপাটে চড় কষিয়ে দেন দেবাশিস । এর পরপরই টিএমসি কর্মীরা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে পুলিশ তাঁকে হত্যাচেষ্টাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
তবে, অভিষেক ব্যানার্জী পরে প্রকাশ্যে জানান যে তিনি দেবাশিস আচার্যকে “ক্ষমা” করে দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের জন্য আবেদন করেন। তবে, সেই সময়ে বেশ কয়েকজন টিএমসি নেতার মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করে। প্রবীণ টিএমসি নেতা সুব্রত মুখার্জী এই গণপিটুনিকে একটি “প্রতিক্রিয়া” বলে সমর্থন করেন। তিনি এটিকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ঘটনার সঙ্গেও তুলনা করেন, যা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রায় ছয় বছর পর, ২০২১ সালের জুন মাসে, দেবাশিস আচার্যকে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। ততদিনে তিনি ২০২০ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে ভোট প্রচারে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে গভীর রাতে তমলুক জেলা হাসপাতালে রেখে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে দেবাশিস আচার্য একটি চায়ের দোকানে ছিলেন এবং একটি ফোন কল পান। ফোনটি পাওয়ার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং তারপর নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর পরিবার এটিকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর সাম্প্রতিক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক হিংসার এই ঘটনাটি আবারও সামনে আসছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, এই ঘটনাগুলো বাংলায় রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন এবং প্রতিশোধমূলক হিংসার এক দীর্ঘস্থায়ী ধারার প্রতিফলন । রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে পুরনো সমস্ত হিংসার ঘটনার ফাইল পুনরায় খোলা হবে এবং অপরাধীদের কারাগারে পাঠানো হবে । এখন হিন্দুত্ববাদী যুবক দেবাশিস আচার্যের খুনের ফাইল খুললে খোদ অভিষেক ব্যানার্জি ফেঁসে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে ।।
