এইদিন স্পোর্টস নিউজ,০২ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান আর বিতর্ক কার্যত সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আর পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিতর্ক ছাড়া কোনো টুর্নামেন্ট শেষ করার ইতিহাস নেই। ইংল্যান্ডের এই বর্তমান সফরও তার ব্যতিক্রম নয়।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তান দলের লজ্জাজনক পরাজয়ের ব্যাপক তোলপাড় পড়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেটে । কারন মোট ৭ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এই সাতজনের মধ্যে একজন, ইমাম-উল-হক, বেশ সমস্যায় পড়েছেন। মঙ্গলবার কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই লন্ডন থেকে লাহোরে ফেরা ইমাম এখন তদন্তের মূল চাপের মুখে পড়েছেন।
পাকিস্তান লিডস ও লর্ডসে দুটি টেস্ট ম্যাচ হেরেছে। দলের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সফরের মাঝপথে সাতজন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে বদলানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। পিসিবি ও দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রধান কারণ হলো ইমামের চোট এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের অবহেলামূলক আচরণ।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় ইমাম-উল-হক এখন বড় বিপদে পড়েছেন। বোর্ডের তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দেওয়ার সময় তিনি আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে,’কমিটি তার পায়ের মাংসপেশির চোটের বিষয়টি তদন্ত করবে, যার কারণে তিনি দ্বিতীয় টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যাটিং করতে পারেননি ।’
গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দল যখন বিপদে ছিল, তখন ইমাম-উল-হক ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের ভান করে ক্রিজ ছেড়েছিলেন। তাই, ইমাম চোটের ভান করেছিলেন নাকি সত্যিই আহত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে পিসিবি একটি তদন্ত শুরু করেছে। তবে, দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে টিম ম্যানেজমেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানায় যে, ইমাম তার কাফ মাসলে চোট পেয়েছেন। ম্যাচের প্রথম দিনে ফিল্ডিং করার সময় এই চোটটি লাগে এবং পরে নিশ্চিত করা হয় যে এটি একটি মাসল টিয়ার।
যে মূল বিষয়টি ইমামকে এখন সমস্যায় ফেলেছে, তা হলো অতীতে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিমের দেওয়া একটি মন্তব্য। ওয়াসিম প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন দলের সাবেক ফিজিও ক্লিফ ডিকন ইমামের চোটের ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি তার নজরে এনেছিলেন।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, গত বছর পিসিবি-নিযুক্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটিও পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সামনে এনেছে।প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ইমাম তার পায়ের আঙুলের চোট নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছিলেন।এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, খেলোয়াড়রা এই মাসের শেষের দিকে ইংল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফেরার পর দলের পারফরম্যান্স, ইমামের চোট এবং ড্রেসিংরুমের অন্যান্য বিষয় নিয়ে পিসিবি একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অন্য একটি সূত্র মনে করে যে, তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সিনিয়র খেলোয়াড়দের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পিসিবির সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। বলা হচ্ছে যে, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমের কিছু ঘটনা এই পদক্ষেপের পেছনে থাকতে পারে।প্রাক্তন অধিনায়ক ও পাকিস্তান ব্যাটসম্যান ইনজামাম -উল-হকের ভাগ্নে ইমাম ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। ইমাম-উল-হক এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ৩১টি টেস্ট, ৭৫টি ওয়ানডে এবং ২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।।
