এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৫ অক্টোবর : ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের বিধ্বংসী হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের নিহত নিরাপত্তা কর্মীদের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে । প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী,যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১,৩১৮ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যার মধ্যে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর বা তার পর থেকে কর্তব্যরত অবস্থায় অথবা দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা আত্মহত্যার ফলে মৃত্যুবরণকারী সকল সৈন্য, পুলিশ কর্মকর্তা, শিন বেত এজেন্ট, দমকলকর্মী, কারা রক্ষী এবং বেসামরিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত।গাজা উপত্যকা, লেবানন ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে লড়াইয়ের সময় অধিকাংশই নিহত হন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের শোকাহত পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭,১৫০ জনেরও বেশি বেড়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ২,১৪৩ জন পিতামাতা, ৩৫৫ জন বিধবা, ৮৮০ জন শিশু এবং ৩,৭৭২ জন ভাইবোন।
ঘটনার দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন আয়েলেট সভাটিৎস্কি নামে একজন ইসরায়েলি। তিনি বলেছেন,২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের সকাল।
সকাল ৮টায় আমি ফোনে আমার মায়ের সাথে কথা বলছিলাম। তার বয়স ৭৯ বছর। আমি তাকে নিরাপদ কক্ষে যাওয়ার জন্য চিৎকার করে বলছিলাম। সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে ঢুকছে। আমি তাদের তার সাথে কথা বলতে শুনে ফোনটা কেটে দিই, যাতে তাকে সরাসরি খুন হতে না শুনি।
আমি পাশের বাড়িতে থাকা আমার ভাই নাদাভকে সতর্ক করার জন্য ফোন করি। সে ফোন ধরে, এবং আমি তার বাড়িতেও সন্ত্রাসীদের শুনতে পাই।
সকাল ৮:১৬ মিনিটে, সন্ত্রাসীরা মা এবং নাদাভকে তার বসার ঘরে জিম্মি করে রাখে। তারা মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাদের ছবি তোলে এবং আমাকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দুটি ছবি পাঠায়। ছবির নিচে তারা ইংরেজিতে লেখে: “হামাস”। তারা মায়ের ফেসবুক স্টোরিতে তৃতীয় একটি ছবি আপলোড করে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মা এবং নাদাভকে গাজায় অপহরণ করা হয়। আমার দাদা, রয়ও নিখোঁজ; পরদিন সকালে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। হামাস সন্ত্রাসীরা তাকে তার বাড়ির কাছেই হত্যা করে। তার বয়স ছিল ৫৩ বছর।
মা ২০২৩ সালের ২৪শে নভেম্বর আমাদের কাছে ফিরে আসেন।নাদাভ টানেলের ভেতরে বেঁচে যান কিন্তু ২০২৪ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তাকে হত্যা করা হয়; হত্যার সময় তার বয়স ছিল ৫১ বছর। তিনি বলেছেন,তিন বছরের দুঃস্বপ্ন।।

