এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৩ মে : মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার তিলজলা থানা এলাকার টালিখোলা মসজিদের কাছে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রথম বুলডোজার অভিযান চালালো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার । তিলজলায় অবৈধ একটি ৫ তলা ভবনের চামড়ার কারখানাতে আগুন লেগে দুই জন মৃত্যু হয় এবং তিন জন গুরুতর আহত হন । এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাড়ির দুই মালিক শেখ নাসির এবং সামির মহম্মদ গ্রেপ্তার করা হয়েছে । বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই বেআইনি নির্মান ভেঙে দেওয়ার নির্দেশের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে । অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে যান নারী ও শিশু কল্যাণ, এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেছেন,’গতকাল তিলজলায় অবৈধ একটি বহুতল বাড়িতে চামড়ার কারখানাতে আগুন লেগে দুই জন মৃত্যু হয় এবং তিন জন গুরুতর আহত হন। গতকাল আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম কোন রকম বেআইনি বহুতল নির্মাণ কে রেয়াত করা হবে না।আজ আমার দপ্তরের আধিকারিকরা উক্ত বহুতল বাড়ির জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং বহুতল টি ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।’
মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় (Kolkata) তিলজলা থানা এলাকার টালিখোলা মসজিদের কাছে ওই ৫ তলা ভবনে চলা চামড়া কারখানায় আগুন লাগে । ঘটনাস্থলে দমকলের চারটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে । কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয় । রাজ্য সরকারের তরফে গঠিত একটি যৌথ কমিটির পরিদর্শনে দেখা যায় যে, অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা, প্রাথমিক অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যথাযথ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই ওই বহুতলে । বুধবার সকালেএ দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,’এটাই শেষ ঘটনা ধরে নিন। এই ধরনের বেআইনি কাজ করতে দেব না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ।’ পরে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি তিলজলার ওই ঘটনাকে ‘কলকাতার ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত’ বলে অবিহিত করে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বন্ধ করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই অবৈধ বহুতলটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন ।
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরেই বুলডোজার অভিযান শুরু করে কলকাতা পুরসভা । তার আগে কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় । যদিও মালিকপক্ষের তরফে নাজিয়া ফিরদৌস নামে এক মহিলা দাবি করেছেন যে তাদের সমস্ত অনুমোদন আছে । তিনি বুলডোজার অভিযানের বিরোধীতা করেছেন।।

