শ্যামসুন্দর ঘোষ,মন্তেশ্বর(পূর্ব বর্ধমান),২৭ জুলাই : সরকারি জল প্রকল্প থেকে পানীয় জল সরবরাহের জন্য পরিবার পিছু ৪০ টাকা করে আদায় করা হত বলে অভিযোগ । কিন্তু প্রকল্পে যুক্ত লোকজন সেই টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল না মিটিয়ে মাসের পর মাস বকেয়া রেখে দেয়। এদিকে লক্ষাধিক টাকা বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে গেছে দপ্তর । ফলে কয়েক দপ্তাহ ধরে তীব্র পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর ব্লকের তৈয়বপুর গ্রামের বাসিন্দারা । জল প্রকল্পে যুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে আজ সোমবার মন্তেশ্বর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) অফিসে স্মারকলিপি জমা দেন গ্রামবাসীরা ।
জানা গেছে,তৈয়বপুর গ্রামে প্রায় ২২৫টি পরিবার বসবাস করে । পানীয় জলের জন্য স্থানীয় সরকারি জল সরবরাহ প্রকল্পের উপর মূলত পরিবারগুলি নির্ভরশীল । কিন্তু দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল না মেটানোয় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে গেছে বিদ্যুৎ দপ্তর । যেকারণে বিগত ২০-২২ দিন ধরে তীব্র পানীয় জলের সংকটে ভুগছে পরিবারগুলি ।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ,জল সরবরাহের জন্য পরিবার পিছু প্রতি মাসে ৪০ টাকা করে আদায় করা হত । কিন্তু জল প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংগৃহীত টাকা সঠিক সময়ে বিদ্যুৎ বিল মেটায়নি । ফলে প্রায় ৩ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার বিল বকেয়া থেকে যায় এবং বিদ্যুৎ দপ্তর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চলে গেছে ।
বিডিওকে স্মারকলিপি দিতে আসা, মনিকা খাতুন শেখ, মিনা মন্ডল,রহিম মন্ডল ও বুরহান শেখরা জানান, “আমরা নিয়মিত টাকা দেওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি ও আর্থিক তছরুপের কারণে আজকে পুরো গ্রাম তীব্র পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছে । বাধ্য হয়ে পাশের গ্রাম থেকে জল এনে কাজ চালাতে হচ্ছে।” তারা আরও জানান, এই বিষয়ে স্থানীয় মামুদপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং থানাতে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা বিডিও-এর দ্বারস্থ হয়েছেন । অবিলম্বে সমস্যার সমাধান ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।।
