এইদিন ওয়েবডেস্ক,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),২৭ জুলাই : বিনা লাইসেন্সে গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনায় । জানা গেছে, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা দিয়ে গোমাংস নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে এলাকায় ঢোকে অভিযুক্তরা । স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে তাদের পিছু ধাওয়া৷ কিন্তু একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যজন ধরা পড়ে যায় । তাকে আটকে রেখে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় । পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে । পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতের নাম খোকন মোল্লা। তার বাড়ি কালনার রুকুশপুর এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে পশু জবাই সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন, গবাদিপশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন এবং খোলা স্থানে পশু জবাই সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজই তাকে কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
জানা যায়,আরও তিনজনের সাথে সে সপ্তাহে একদিন গোমাংস বিক্রির ব্যবসা করে খোকন মোল্লা । হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার উপর দিয়েই সে মাংস নিয়ে যায় । স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের অভিযোগ, আগে থেকেই অভিযুক্তদের ওই এলাকায় না আসার জন্য বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধ উপেক্ষা করেই ফের একই কাজ করছিল তারা । যে কারনে আজ তারা অভিযুক্তদের পিছু ধাওয়া করতে বাধ্য হন । যদিও ধৃত খোকন মোল্লার দাবি,’আমাকে আগে কেউ নিষেধ করেনি। তাই আজও ব্যবসা করতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকেই আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে।’
প্রসঙ্গতঃ,রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে ২০২৬ সালের ১৩ই মে থেকে গবাদি পশু জবাই ও বলির ওপর ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশিকা জারি করেছে। গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুর জবাইয়ের পূর্বে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র বা ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। শংসাপত্র পাওয়ার পরেও কোনো পশু যত্রতত্র বা খোলা জনসমক্ষে জবাই করা যাবে না; শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ও সরকার-অনুমোদিত কসাইখানায় তা করতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।।
