এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ জুলাই : হাওড়ার উলুবেড়িয়া শহরের বৈশালী সাহা ও আক্রম খানের প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে কয়েকদিন ধরেই তোলপাড় চলছিল এলাকায় । সম্প্রতি যুগল বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও স্থানীয় কিছু মানুষ ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিয়ের বিরোধিতা করছিল বলে অভিযোগ । ঘটনার কথা জানতে পেরে শেষে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ও সিপিএম নেতা সব্যসাচী চ্যাটার্জি যুগলের পাশে দাঁড়ান । মূলত তারই প্রচেষ্টায় আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হন যুগল। আজ সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল । বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নজিরবিহীন অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বার্তা, ‘দুজন প্রাপ্তবয়স্ক । ভিন সম্প্রদায়ের হলেও ভারতীয় আইন অনুযায়ী উভয়ের সম্মতিতে বিয়েতে বাধা দেওয়া বেআইনি ।’ এরপর বিচারপতি আগামী ২৯ জুলাই ওই যুগলের রেজিস্ট্রি ম্যারেজের দিন নির্ধারণ করে পুলিশকে যাবতীয় সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন ।
জানা গেছে,উলুবেড়িয়া শহরের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহার ৩ মেয়ের মধ্যে বড় বৈশালী সাহা(৩১) । উলুবেড়িয়ার যুবক আক্রম খানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল । সম্প্রতি তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় । এতে কিছু সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিবাদ করে । বৈশালী সাহা সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন,’রাত্রি ১১ টার সময় থানা থেকে ফোন করে যেতে বলা হত । সংগঠনের লোকজন ও কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বাড়িতে এসে আমাকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বোঝাত । বিভিন্নভাবে হুমকি দিত । বাবার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিত । ওরা বলত লাভ জিহাদ । কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ১৫-১৬ বছরের । উভয়ের পরিবারেই বিয়েতে সম্মতি আছে । তাহলে লাভ জিহাদ কি করে হয় ?’
আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৈশালী সাহা তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান । এরপর তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন । এর আগে স্থানীয় একটি ইউটিউব চ্যানেলকে বৈশালী সাহা বলেছিলেন,’আমরা স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করব । আমি তো আর ধর্ম পরিবর্তন করছি না । হিন্দুই থাকব এবং হিন্দু রীতিনীতি মেনে চলব । আর ও ওর মত মুসলিম রীতি মেনে চলবে ।’
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আজ আদালতে বলেছেন, ‘এখানে মূল বাধা হবু দম্পতির নিজের পরিবার নয়, বরং তৃতীয় পক্ষ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শাখা এই বিয়ে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং হুমকি দিচ্ছে।’সবদিক খতিয়ে দেখে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন যে, ২৯ জুলাই বিয়ের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে ওই দম্পতির সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ইতিপূর্বে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।।
