এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৪ জুন : চার বছর আগে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গৃহবধূ শিপ্রা রানী দাসের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হল পুলিশ । ঘাতক তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ । গত ২২ জুন রাত ১২:৩০টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পেশায় বাবুর্চি ধৃত তাজুল ইসলামকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই সে শিপ্রা রানী দাসকে খুন করেছে ।
জানা গেছে,মৃত শিপ্রা রানী দাস জীবিকার তাগিদে কালু বাবুর্চি ও তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলের সঙ্গে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন ।২০২১ সালের অক্টোবর মাসের ০১ তারিখে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান । পরবর্তীতে ০৪/১০/২০২১ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানাধীন নবীপুর এলাকার জলার চরে ফাইজুল হকের ফসলি জমি থেকে তার পচাগলা দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ শনাক্ত হওয়ার পর মৃতের স্বামী সবিনয় দাস ০৯/০১/২০২২ তারিখে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নবীনগর থানার মামলা(মামলা নং-০৬/২০২২) দায়ের করেন৷ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারা এবং পেনাল কোডের ২০১ ধারায় মামলা দায়ের করে । কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ কোনো সূত্র খুঁজে পাচ্ছিল না ।
নবীনগর থানা পুলিশ প্রায় ৬ মাস ১১ দিন মামলাটি তদন্ত করে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০/০৭/২০২২ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইতে মামলাটি হস্তান্তরের পর প্রথমে পুলিশ পরিদর্শক মহম্মদ শফিকুর রহমান ভূঁইয়া তদন্তভার গ্রহণ করে দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করেন এবং ০৭/০৯/২০২৩ তারিখে নারায়ণগঞ্জ থেকে মামলার অন্যতম সহযোগী আসামি কালু বাবুর্চি প্রকাশ ওরফে কালু সাহা (৫৫)-কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে তিনি অবসর গ্রহণ করলে মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক আলী আশরাফ, পিপিএম-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি বদলির কারণে অন্যত্র কর্মস্থলে যোগদান করলে ২২/০৫/২০২৬ তারিখে এসআই (নিঃ) মহম্মদ শাহাদাত হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলকে গত ২২ জুন রাত ১২:৩০টায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিপ্রা রানী দাসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে কবুল করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, মৃত মহিলার সঙ্গে আসামি তাজুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে শিপ্রা রানী দাসকে হত্যা করে এবং দেহ জলার চরের ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ধৃতকে আদালতে তোলা হয়েছে ।।
