প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৭ নভেম্বর : পড়াশোনায় ভালে ফলাফলের জন্য জয়নুল
আবেদিন তাঁর ছেলে এপিজে আব্দুল কালামকে কখনোই কোন বস্তুগত বা আর্থিক পুরস্কার দেননি।বরং উচ্চশিক্ষার জন্য রামানন্দপুরমে যেতে চাওয়া ছেলে আব্দুল কালামকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন মসজিদে। সেখানে বিশেষ দোয়া ও নামাজ পড়ার পর আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তাঁর ছেলেকে আশীর্বাদ করেছিলেন।আত্মজীবনী ‘উইংস অফ ফায়ার’এ এইসব কথা লিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা মহান বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালাম হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি নবম শ্রেণীর অর্ধবার্সিকী পরীক্ষায় ভাল ফল করা কোন ছাত্রকে তাঁর বাবা উপহার স্বরুপ ২.৩০ কোটি টাকা মূল্যের বিএমডাব্লিউ গাড়ি কিনে দিতে পারেন।তবে হ্যাঁ, তেমনটাই হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির পারাজে। যা নিয়ে নেট দুনিয়ায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছে ।
নবম শ্রেণীর পরীক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্র মহম্মদ তালহাকে যিনি ২.৩০ কোটির বিএমডব্লিউ এম-৪ কমপিটিশন গাড়ি উপহার দিয়েছেন তিনি হলেন তাঁর বাবা সামসুদ্দিন মিদ্যা।গলসির পারাজ
নিবাসী সামসুদ্দিন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বিলাসবহুল দামি গাড়ির প্রতি সামসুদ্দিনের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। তাঁর গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে রেঞ্জ রোভার,হুণ্ডাই আলকাজার,ভলভো,মাহিন্দ্রা থারের মতো একাধিক নামী সংস্থার গাড়ি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বিএমডব্লিউ এম-৪ কমপিটিশন ।
সামসুদ্দিন জানিয়েছেন,“তাঁর নতুন বিএমডাব্লিউ এম-৪ কমপিটিশন গাড়ি কেনার পিছনে রয়েছে তাঁর ছেলে মহম্মদ তালহার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা। ছেলে নবম শ্রেণীর অর্ধবার্সিকী পরীক্ষায় ভালো ফল করায় তিনি উপহার স্বরুপ ছেলেকে বিএমডাব্লিউ এম-৪ কমপিটিশন গাড়ি কিনে দিয়ে ছেলের স্বপ্ন পূরণ করেছেন বলে জানান’। একই সঙ্গে তিনি এও জানান,“ছেলের জন্য বিএমডাব্লিউ গাড়ি কিনতে তাঁকে সুদূর মুম্বইয়ে যেতে হয়েছিল।গাড়িটি কিনতে তাঁর প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে”।গাড়ির পাশাপাশি নম্বরের প্রতিও বিশেষ পছন্দ রয়েছে সামসুদ্দিনের। তিনি জানান,তাঁর একাধিক গাড়ির নম্বরের শেষ তিনটি সংখ্যা ৫৫৫।যার সঙ্গে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের গাড়ির নম্বরের মিল রয়েছে।নিছের ছেলেকেও এমন গাড়ি উপহার দিতে পরে আপ্লুত সামসুদ্দিন সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন ।
এদিকে বাবার কাছ থেকে এমন উপহার পেয়ে যারপরনাই খুশি মহম্মদ তালহা। তবে এখনি সে গাড়ি চালানোর দিকে মন দিতে চায়না । আপাতত সে পড়াশোনাতেই মনোযোগ দিতে চায়।তাঁর কথা অনুযায়ী,’এখন সপ্তাহে একদিন নতুন বিএমডাব্লিউ গাড়িতে সে চড়বে। সেদিন গাড়ি চালাবেন তাঁর বাবা। আর সে তাঁর বাবার পাশে বসে বিএমডাব্লিউ গাড়িতে চড়ার আনন্দ উপভোগ করবে’।তবে বাবা ও ছেলে যাই বলুক না কেন গোটা বিষয়টি নিয়ে সমগ্র গলসি জুড়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।।

