এইদিন ওয়েবডেস্ক,নেত্রকোণা,০৬ মে : বাংলাদেশের নেত্রকোণার মদনের হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রী ধর্ষণের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । মঙ্গলবার রাত সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব–১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে । মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, আসামি র্যাবের হেফাজতে রয়েছে । পরে থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল থানায় সাগর ও তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে ওই ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। মামলার পর থেকে শিক্ষক সাগর চম্পট দেয় ও মাদ্রাসাটিও বন্ধ থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে তার কুকীর্তি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তবে গত শুক্রবার মদন উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তার মা নিয়ে গেলে সেখানে শিশুটির সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই চিকিৎসক তার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা সবার নজরে আসে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখায় সে।
গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেনি। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি বাড়িতে এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ করেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করায় ভুক্তভোগী তার দিদিমার কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। শিশুটির মা তার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনে সন্দেহ হলে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, প্রায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে।
ময়মনসিংহ নগর ও মাতৃসদনের গাইনোকোলজিস্ট এবং কনসালটেন্ট ডাক্তার সায়মা আক্তার বলেন, আলট্রাসনোগ্রাফি করে মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার কথা জানা যায়।।
