এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাঁকুড়া,২০ অক্টোবর : ডান হাতে রক্তাক্ত তরবারি আর বাম হাতে টর্চ লাইট নিয়ে গ্রামের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অর্ধনগ্ন এক ব্যক্তি । কিছুটা দূরে পড়ে রয়েছে তার মুন্ডহীন দেহ । মুন্ডটি রয়েছে পারিবারিক কালীমন্দিরের দেবীমুর্তির পায়ের কাছে । বাড়িতে ওই ব্যক্তির বাবার রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে রয়েছে । সোমবার মহাষ্টমীর সন্ধ্যার এই দৃশ্য বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর লাল বাবা মানা চর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয় । জানা গেছে, ঘাতক ব্যক্তির নাম মঙ্গল চৌধুরী । পুলিশ রাতেই তাকে আটক করেছে । পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতদের নাম রুম্পা চৌধুরী (৩৯) এবং রাজেন্দ্র চৌধুরী (৬০)।
দামোদর নদীর চড়ে রয়েছে সোনামুখীর লাল বাবা মানা গ্রাম । স্থানীয় সূত্রে খবর,মঙ্গল ও তার বাবা আগে নদীর চড়ে শ্মশানে কালীপূজো করতেন । দেবীর বাৎসরিক পূজো পাঁঠাবলি দেওয়া হত । লোকজনকে ভোগও খাওয়াতেন । কিন্তু কয়েক বছর আগে বাড়িতে মন্দির গড়ে দেবীকে শ্মশান থেকে সেখানে স্থাপন করেন ।
মঙ্গল চৌধুরীর ভাই লক্ষণ চৌধুরীর কথায়,সোমবার সন্ধ্যায় আমি বাড়ি ফিরে দেখি বউদির মুন্ডহীন দেহ পড়ে রয়েছে । কিছুটা দুরেই পড়ে রয়েছে বাবার ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ । বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে লোকজন ডাকেন । এরপর লোকজন এসে বউদির মুন্ডটা মন্দিরের মুর্তির নিচে দেখতে পায় ।
জানা যায়,খবর পেয়ে লোকজন জড়ো হয়ে যায় । তারা মঙ্গলকে থামানোর চেষ্টা করে । কিন্তু সে তার হাতে থাকা রক্তাক্ত তরবারি ঘোরাতে ঘোরাতে আস্ফালন করতে শুরু করলে সবাই ভয়ে পালিয়ে যায় । এরপর সোনামুখী থানার পুলিশ এসে অনেক চেষ্টায় ওই ব্যক্তিকে ধরতে সক্ষম হয় । হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তরবারিটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ । প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক কোনো ঝামেলা থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।।

