এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২০ অক্টোবর : উত্তর দিল্লি জেলা সাইবার সেলে কর্মরত দিল্লি পুলিশের এক কনস্টেবলকে তার এক সহযোগীসহ অপহরণ ও চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে শনাক্ত করে কোতোয়ালি পুলিশ রবিবার(১৮ অক্টোবর) মইন আলী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। অপহরণের খবর পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দিল্লি পুলিশের উত্তর জেলার অধীনস্থ কোতোয়ালি পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী দিল্লি পুলিশের এক কনস্টেবল, তার শৈশবের বন্ধু ও তাদের সহযোগী মিলে লালকেল্লার কাছ থেকে এক দোকানদারকে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনাটি রবিবার ঘটেছিল এবং অভিযুক্তদের রবিবার রাতে নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের কাছ থেকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল মঈন আলী, তার বন্ধু সোনু এবং তাদের সহযোগী আখতার লাল কেল্লা এলাকার ঘড়ি মার্কেটে এক স্থানীয় দোকানদারকে নিশানা করার পরিকল্পনা করেছিল।একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,সোনু এবং দোকানদার দুজনেই বাজারে দোকান চালায়। সোনু জানত যে লোকটি সম্প্রতি ভালো বিক্রিবাটা করেছে এবং সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে আলিকে বলেছিল যে তারা লোকটির কাছ থেকে সহজেই ৫ লক্ষ টাকা আদায় করতে পারবে। রবিবার সকালে, তারা লাল কেল্লা বাজার এলাকায় গিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছায়। ভুক্তভোগীকে একটি গাড়ির কাছে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অভিযুক্তরা তাকে গাড়ির ভেতরে ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ।
পুলিশ জানিয়েছে, আলী টাকা পাঠানোর জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার ও বন্ধুকে ফোন করেছিল। টাকার পরিমাণ ২-৩ লাখ টাকায় স্থির করা হয়েছিল।পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগীর এক বন্ধু অবশ্য এই দাবিতে রাজি হননি এবং পিসিআর-এ ফোন করেন। তিনি রবিবার সন্ধ্যায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ধরতে দল পাঠানো হয় ।
তদন্ত চলাকালে, অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশ প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে। তাদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঈন আলী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে মইন আলী উত্তর দিল্লি সাইবার সেলে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের পদক্ষেপের পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলাটিতে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।।

