এইদিন ওয়েবডেস্ক,মহারাষ্ট্র,২০ অক্টোবর : নাগপুরের সিমবায়োসিস আইনি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Symbiosis Law School) অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসার মহম্মদ আহমার আফাক (Dr Ahmar Afaq) সেখানকার হিন্দু ছাত্রীদের চাপ দিত নামাজ পড়তে হবে, কোরান পড়তে হবে, মুসলিম রীতি নীতি মানতে হবে, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে হবে বলে । না হলে “ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দেব” বলে তিনি হুমকি দিতেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
জানা গেছে, এক হিন্দু ছাত্রী অধ্যাপক আহমার আফাকের তার বাবাকে পাঠানো যৌন উত্তেজক বার্তাগুলো দেখানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ছাত্রীর বাবা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা পরে কলেজ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে এবং নাগপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, অধ্যাপক আহমার আফাক হিন্দু ছাত্রীদের কাছে নৈতিক সীমা লঙ্ঘন করে বার্তা পাঠাতেন, যেখানে তিনি যৌন ইঙ্গিতের পাশাপাশি নামাজ পড়া, কোরান পাঠ এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মতো ইসলামিক প্রথাগুলো পালনের জন্য সরাসরি প্ররোচনা ও চাপ দিতেন।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সিম্বায়োসিস ল স্কুল প্রশাসনের টনক নড়ে । বিষয়টি তদন্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আহমার আফাককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে ক্যাম্পাসে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি ।
সিম্বায়োসিস ল স্কুল নাগপুরের পরিচালক ডঃ সুখবিন্দর সিং দারি নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত অধ্যাপককে ক্যাম্পাসে না আসতে বা কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে, এই তদন্ত তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আহমার আফাকের বিরুদ্ধে ওঠা একই ধরনের অভিযোগের বিষয়েও প্রসারিত হবে, যেখানে তিনি পূর্বে কর্মরত ছিলেন।
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (জোন ৫) নিত্যানন্দ ঝা-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৭ই অক্টোবর) সকাল প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে সিম্বায়োসিস ল স্কুলের নাগপুর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের ১৫-১৭ জন কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় পুলিশ বিক্ষোভকারী ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করে দেয়, যার পরে অধ্যাপককে ছুটিতে পাঠানো হয়।
তবে, শনিবার সন্ধ্যা ৬:৪৫ নাগাদ উত্তেজনা চরমে ওঠে, যখন অভিযোগকারী ছাত্রী ও তার বাবাসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন লোক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান । কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগকারীর বাবা অধ্যাপক আহমার আফাকের মুখোমুখি হলে, তিনি সহিংস হয়ে ওঠেন এবং তাকে আক্রমণ করেন। দমে না গিয়ে অভিযোগকারীর বাবা আফাককে চড়ও মারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি একটি উন্মুক্ত অধিবেশনের আয়োজন করে, যেখানে ১০০ থেকে ১২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। পুলিশের হস্তক্ষেপে ছয় থেকে সাত জনের একটি প্রতিনিধিদল সিম্বায়োসিস ল স্কুল প্রশাসনের সাথে সাক্ষাৎ করে। রবিবার (১৮ই অক্টোবর) পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এই ক্ষোভের মধ্যে, বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে আহমার আফাকের একটি পুরনো ফেসবুক ছবি সামনে এনেছেন। অনেকেই কথিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
নাগপুরের সিম্বায়োসিস ল স্কুল প্রশাসন সহকারী অধ্যাপক আহমার আফাকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করলেও, সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা কলেজ প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ‘সিম্বায়োসিসের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা: অসদাচরণের প্রতি শূন্য সহনশীলতা’ শিরোনামে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করা হয়েছে, যেখানে আহমার আফাকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেছে, নাগপুরের সিম্বায়োসিস ল স্কুলের বিতর্কে জড়ানোর ঘটনা এই প্রথম নয় । সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেশ কয়েকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি । ২০২৫ সালের মে মাসে, নাগপুরের সিম্বায়োসিস ল স্কুলের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী ইশা কুমারীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। কারণ, তাকে কেরালার মাওবাদী সমর্থক ও স্বাধীন সাংবাদিক রেজাজ এম. সাইদিকের সাথে একটি হোটেল কক্ষে পাওয়া গিয়েছিল । সাইদিককে কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে এবং ইনস্টাগ্রামে ‘অপারেশন সিঁদূর’-এর বিরুদ্ধে পোস্ট করার জন্য বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে মামলা দায়ের করে। সাইদিক পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী শিবিরগুলির বিরুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদূর’-এর নিন্দা করেছিলেন। তিনি নকশালদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানেরও সমালোচনা করেছিলেন।।

