প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমন,২৯ জুলাই : স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে গ্রেপ্তার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুখ্যাত তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খাঁন। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হলে বিচারক বিভাস চট্টোপাধ্যায় ধৃত তৃণমূল নেতাকে ৪ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা আত্মসাতের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মহিলারা।কিন্তু তৃণমূল রাজত্বে তাঁরা ন্যায় বিচার পাননি । ২০২৬ বিধাণসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি ঘটার পর জামালপুরের একটি মহিলা কো–অপারেটিভ সোসাইটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী মীরাতাজ শেখ গথ ২০ মে জামালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি পুলিশকে জানান,২০২৩ সালে নারী চেতনা মাল্টিপারপাস মহিলা কো–অপারেটিভ সোসাইটিতে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধীকারী ছিলেন।তখন মেহেমুদ খাঁন ছিলেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি । মীরাতাজের অভিযোগ,ওই সময়ে তিনি জানতে পারেন যে তাঁদের অপারেটিভ সোসাইটির নামে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের জামালপুর শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কীভাবে এবং কার অনুমতিতে গ্রামীণ ব্যাঙ্কে ওই অ্যাকাউন্ট খোলা হল তা নিয়ে তিনি বিডিও এবং অন্যান্য আধিকারিকদের কাছে জানতে চান । বিষয়টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানেন বলে তাঁকে তখন জানানো হয়।
পুলিশকে মীরাতাজ জানিয়েছেন,এরপর তিনি গ্রামীণ ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ’সই জাল“ করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়ে যাবার বিষয়টিও তিনি জানতে পারেন।বিষয়টি নিয়ে তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন দপ্তরে নালিশ জানান। এআরসিএস–কেও চিঠি দেন ।এমনকি অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি নিয়ে তিনি তদানীন্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে জানতে চান। কিন্তু সভাপতি লোকজন দিয়ে তাঁকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় ।
মীরাতাজের অভিযোগ,তাঁর সই জাল করে গ্রামীন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।যার নেতৃত্বে ছিল মেহেমুদ খাঁন ।এছাড়াও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বসানো গাছ, বাচ্চাদের স্কুলের পোশাকের টাকাও হাতানো হয়েছে।এইসব নিয়ে তৃণমূল রাজত্বে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি থানায় এফআইআর রুজু করেন বলে মীরাতাজ শেখ জানিয়েছেন।
শুধু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা আত্মসাতের মামলাই নয়, আগ্নেআস্ত্র নিয়ে তোলাবাজি সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগে মেহেমুদ খাঁনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তেমনই একটি মামলায় গত ৮ জুলাই পুলিশ জামালপুরের কুখ্যাত তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খাঁনকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেপাজতে নেয় । পুলিশ হেপাজত শেষে তাঁর ঠাই হয় বর্ধমান সংশোধনাগারে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশোধনাগারে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মেহেমুদ খাঁনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পায়। এরপরেই সরকারি টাকা হাতানোর মামলায় মেহেমুদ খাঁনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। সেইমতো মঙ্গলবার তাকে বর্ধমানের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করা হয়। অর্থ উদ্ধারের জন্য এবং ঘটনায় বাকি জড়িতদের ভূমিকার বিষয়ে বিশদে জানতে পুলিশ ধৃতকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। বিচারক ৪ দিন পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেন ।।
