এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৪ জুন : তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন কে. আন্নামালাই বিজেপি ছেড়েছেন বলে প্রচারিত খবর অস্বীকার করেছেন। নাগেন্দ্রন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন যে, আন্নামালাই দল থেকে পদত্যাগ করেননি এবং নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে কারও সঙ্গে কথাও বলেননি। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আন্নামালাইকে তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর সময় নাইনার নাগেন্দ্রন এই প্রতিক্রিয়া জানান।
নাইনার নাগেন্দ্রনকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়ে,‘তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি হিসেবে আমি তাঁর কাছ থেকে কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। আন্নামালাই নতুন দল শুরু করার বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেননি। আমরা তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করিনি, বা তিনিও আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেননি। তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।’
কয়েকমাস ধরেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে, তামিলনাড়ুতে দলীয় বিষয় নিয়ে আন্নামালাই এবং বিজেপি নেতাদের একাংশের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। মনে করা হয় যে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে পুনরায় জোট করার বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে আন্নামালাই অসন্তুষ্ট ছিলেন। আন্নামালাইয়ের অবস্থান ছিল জোটের উপর নির্ভর না করে তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে একটি স্বাধীন শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা।
পরবর্তীতে, সিবিএসই-র ত্রি-ভাষা প্রকল্পের সমালোচনা করে আন্নামালাইয়ের সাম্প্রতিক পোস্ট এবং কেন্দ্র সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে যে, আন্নামালাই দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন। খবর ছড়িয়ে পড়ে যে আন্নামালাই একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে চলেছেন। কোয়েম্বাটুর এবং অন্যান্য স্থানে আন্নামালাইয়ের সমর্থনে পোস্টারও দেখা গেছে। পরে, আন্নামালাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিজেপি এই বৈঠকের বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে রাজি না হওয়ায় গুজব আরও তীব্র হয়।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আন্নামালাই ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর ২০২১ সালে তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি হন। আন্নামালাইয়ের রীতি ছিল বিরোধী দলগুলোকে নির্মমভাবে আক্রমণ করা। কিন্তু পরে, ২০২৫ সালে সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর আন্নামালাই পিছু হটতে শুরু করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোয়েম্বাটুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিজেপি আন্নামালাইকে এই আসনটি দেয়নি। নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর আসন না পাওয়াটাও আন্নামালাইকে ক্ষুব্ধ করেছে।।
