এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগনা,০৯ মে : পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার খবরের মধ্যেই, মঙ্গলবার গভীর রাতে আমডাঙ্গা নির্বাচনী এলাকায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাপক ভাঙচুর,মঞ্চ থেকে তুলসি গাছ উপড়ে ফেলাসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুদের “কুরবানি” দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় হলে অভিযোগ । এবারের ভোটে বিজেপি-কে ভোট দেওয়ার অপরাধে আমডাঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী ও তার সঙ্গী মুস্তাকের নেতৃত্বে ১০০-১৫০ জনের একটা দল এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির । আজ শনিবার এলাকায় পরিদর্শনে যায় জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশনের (NCSC) প্রতিনিধি দল। কমিশনের সদস্য ডঃ পার্থ বিশ্বাস হামলাকারীদের “দুষ্কৃতী জিহাদি” বলে উল্লেখ করে পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ভর্ৎসনা করেন । গ্রামবাসীদের সামনেই তিনি উপস্থিত বারাসত জেলার অতিরিক্ত এস পি দুর্বার ব্যানার্জি, আমডাঙ্গার বিডিও, নবকুমার দাস,আমডাঙ্গা থানার আইসি আনিসুর রহমানদের কার্যত ধমক দেন এবং ‘পলাতক’ হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন । পাশাপাশি এই হামলার মূল অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকীর নাম কেন এফআইআর এ অন্তর্ভুক্ত করা হল না সেই প্রশ্ন তুলে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দারের নির্দেশ দেন তিনি ।
ভোটের ফল ঘোষণার পরেই ৫ মে রাতে আমডাঙার বোদাই কাহার পাড়ায় হিন্দু পরিবাগুলির উপর তৃণমূলের দুষ্কৃতী দল লাঠিসোঁটা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় । বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধেই এই হামলা হয় বলে অভিযোগ ।
নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং পরের দিন আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ান৷ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের কাহার পাড়া গ্রামে সোমবার রাতে তৃণমূলের জেহাদিরা একাধিক সনাতনীদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। বাচ্চাদের ওরা মারধোর করেছে। আজ আমডাঙার কাহার পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করলাম। আমি তাঁদের একজোট হওয়ার পরামর্শ দিলাম। ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় সমর্থকদের আর্থিক সহায়তাও করা হবে। আমডাঙা থানায় গিয়ে আমি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।’
ডঃ পার্থ বিশ্বাসের নেতৃত্বে আজ জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশনের একটা প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন । মহিলাদের আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় । এক তরুনী তুলসী মঞ্চ থেকে উপরে ফেলা তুলসী গাছ দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, “আমাদের উপর কেন বারবার হামলা হবে, আমরা হিন্দু তাই ?” । একজন বধূ অভিযোগ করেন যে বাড়ির বাচ্ছা ছেলেদের কুরবানি দেওয়ার হুমকি দেয় হামলাকারীরা ।
ডঃ পার্থ বিশ্বাস বলেন,’আমডাঙার বোদাই কাহার পাড়ার বিষয়ে আমরা তপশিলি জাতি কমিশনে একটা অভিযোগ পাই । বিধানসভার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেই এখানে যিনি পুণঃগণনার পরে জিতেছেন, তার নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী জিহাদি এই কাহার পাড়ার তপশিলি পরিবারগুলোর ওপর হামলা করে এবং ভাঙচুর চালায়৷ শুধু তাই নয়, পরিবারের বাচ্চা ছেলেদেরকে কুরবানী দেবে বলে হুমকিও দেয় । বাড়িঘর যথেচ্ছভাবে ভাঙচুর হয়েছে । স্থানীয় প্রশাসনকে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমি নিতে বলেছি । আমার আশা যে প্রশাসন সঠিক ব্যবস্থা নেবে ।’ তিনি বলেন,’এরা সাধারণ মানুষ৷ রাজনীতির সঙ্গে এদের সরাসরি কোন যোগ নেই । এরা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মীও নয় । তারপরেও তাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তার বিরুদ্ধে তপশিলি কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে । স্থানীয় প্রশাসনকে বলেছি যারা এখনো বাইরে ঘুরছে তাদের চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে ।’ এদিন গ্রামবাসীদের তরফে এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন ও পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানানো হয় । কমিশনের সদস্যরা সেগুলি নথিভুক্ত করা হয় । পাশাপাশি জেলাশাসক ও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের নামও নথিভুক্ত করে জাতীয় তপশিলি জাতি কমিশন ।।
