বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত সরকার যে একটা বড়সড় কিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে, এটা দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা কয়েক দিন ধরেই বলে আসছে । আজও নিজ বাসভবনে এনএসএ অজিত দোভালের সঙ্গে একটা জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু সামনে না এলেও সেটা যে বাংলাদেশ সম্পর্কীয় এটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট । কিন্তু যেটা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের রাতের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে,সেটা হল বাংলাদেশের ১৪,০০০ কিলোমিটার জুড়ে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি । এছাড়া,ভারতের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সেনা বলে পরিচিত গোর্খা রেজিমেন্টকে চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরে মোতায়েন করায় বাংলাদেশ জুড়ে শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে ।
ভারতের সামরিক তৎপরতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ‘বিল্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজে । বাংলাদেশের রাজশাহীর বগুড়া থেকে পরিচালিত ওই সোশ্যাল মিডিয়া নিউজ চ্যানেলে গোলাম মৌলা রনির(Golam Maula Rony) কথায়,
‘চুপসে গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী! ভারত এবার ফুল দমে খেলা দেখাচ্ছে?’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,’মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর ছাড়ল মুসলিমরা! রংপুর কি এখন সরাসরি দিল্লি থেকে চালাবেন মোদি?’
গতকাল একটি টক শোয়ে এই আশঙ্কার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও করেছেন তিনি । গোলাম মৌলা রনি বলেছেন,রংপুরের দিকে ১২ হাজার সেনা নিয়ে আসা হয়েছে । ইন্ডিয়া হয়তো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে দিতে পারে বাংলাদেশের উপরে । গত দুইদিন ধরে ভারতের তিনটে বাহিনী ব্যাপক মিটিং করেছে । মানুষকে টের পেতেও দিচ্ছে না যে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের মধ্যে টেনশনটা কোন পর্যায়ে আছে।’
তিনি বলেছেন, রংপুর সীমান্তে বারো হাজার সেনা নিয়ে আসা হয়েছে। আরও যা সেনা আছে সে তাও নিয়ে আসা হচ্ছে । গতকাল রাত থেকে আপনারা যে ট্যাংক, কামান যেতে দেখছেন ট্রাকে-গাড়িতে, এগুলো এখনো এই মুহূর্তে মোতায়েন চলছে । গত পরশু রাতে নোটাম ঘোষণা হয়েছে যে ১৪,০০০ কিলোমিটার, যেটা পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় নোটাম আমার কখনো হয়নি।১৪,০০০ কিলোমিটার জুড়ে কোনো দেশ সামরিক প্রস্তুতি নেয়নি । পুরোটাই ব্লক । কামান থেকে শুরু করে মিসাইল সার্চ করার মতো যত মেশিনপত্র হয় সব ওখানে আছে । ভারতের সীমানায় এই মুহূর্তে আড়াই লক্ষ সেনাবাহিনী আছে । এবং সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যে সেভেন সিস্টার্সের কথা আমরা বলি, সেখানে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সেনা, যেটাকে গোর্খা সেনা বলা হয়, এগুলো নেপালি এবং ভারতীয় পাহাড়ি সেনা, এই সেনা ব্রিটেনে আছে, এই গোর্খা সেনারা অস্ত্র ছাড়াও শুধুমাত্র ছুরি দিয়ে ৮-১০ জন অস্ত্রধারীকে মেরে দিতে পারে এত দুধর্ষ এই সেনা,সেই সেনা পুরো সেভেন সিস্টার্সে মোতায়েন করা হয়েছে । সুতরাং এই ৭২ ঘন্টা আমাদের জন্য খুবই ক্রুশিয়াল । এই ৭২ ঘণ্টার ভিতরে ইন্ডিয়া আমাদের মাইরা দিতে পারে । আমাদের মার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে । দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ।
ফেসবুক লিঙ্ক : https://www.facebook.com/share/v/1PDQiJkKm8/
তিনি আরও বলেছেন, আজকের যা খবর ঢাকা শহরের ভিতরে ছটা আস্তানা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে বড় বড় মাদ্রাসা আছে দু তিনটে। আরো কিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে জঙ্গী আস্তানা বলে । এবং এখানে নাকি প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার শত শত লোক আছে। তারা যেকোনো মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে । যে কারণে একটা সতর্কতা জারি করেছে, যেটা বাংলাদেশের কোন পত্রপত্রিকা বা টিভিতে বলেনি। বাংলাদেশের গোয়েন্দা দপ্তর এনএসআই ডিজিএফএ যে সতর্কতা পাঠিয়েছে সেটা বলছি । সেটা হচ্ছে, ঢাকার ক্রিকেট কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্টে ও পাশের পিঙ্ক সিটি ডুপ্লেক্স আবাসিক এলাকা,পাকিস্তানের বড় জঙ্গি সংগঠনের সামরিক নেতা জাকির খান এবং আইএসআই-এর সদস্যরা অবস্থান করছে। এটা বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্ট ।
ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাসে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ও কিছু বাংলাদেশি পাকিস্তানপন্থী অফিসার দেখভাল করছে এগুলো । পিঙ্ক সিটি ডুপ্লেক্স আবাসিক বাংলাদেশি জঙ্গি সহ বিমান বিধ্বংসের রকেট লঞ্চার, ভারী অস্ত্র যোগান এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যেখান দিয়ে বিমান উঠানামা করে। বিমানবন্দরের বিপরীতে ঠিক বিপরীতে । এটা হচ্ছে সরাসরি বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্ট। এই জন্য বলছি ৭২ ঘণ্টার ভিতরে যেকোনো সময় অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে ।
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, এই যে জায়গাগুলোর কথা বলছি সেগুলি থেকে একটু দূরে থাকুন । আগামী ৭২ ঘণ্টা সকলে একটু দূরে থাকুন। সে কোন মুহূর্তে যে কোন কিছু ঘটবে ।
