এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুজরাট,০২ জুন : গুজরাটের কচ্ছ জেলার মাধাপার থানার অন্তর্গত রায়ধানপার গ্রামে, একটি সামান্য বচসার জের ধরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কিছু লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটে ৩০ মে, ২০২৬ তারিখের রাতে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং তারপর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এই হিংসায় বেশ কয়েকজন হিন্দু যুবক ও পুলিশ আহত হন। স্থানীয় হিন্দু যুবক দর্শন বরদিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে, মাধাপার পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) প্রাসঙ্গিক ধারায় ২৩ জন নামধারী এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
এফআইআর এবং অভিযোগকারী দর্শন বারদিয়া জানান যে, ঘটনাটি শুরু হয় ৩০শে মে রাত প্রায় সাড়ে দশটায়, যখন তিনি ও তাঁর বন্ধুরা গ্রামের প্রান্তে বসেছিলেন। পাশের গ্রাম ভার্নোরা থেকে একদল মুসলিম যুবক তাদের গ্রামে এসে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে ছিল সেলিম, আবু সুফিয়ান, সাহিল, আব্বাস, সামির এবং আরও অনেকে। তারা গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বলে, “আমাদের দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আবার তাকালে তোমাদের পিটিয়ে দেব।”এই তর্কাতর্কি শীঘ্রই হাতাহাতিতে পরিণত হয়। এরই মধ্যে, নামের এক ব্যক্তি একটি বোলেরো পিকআপ ট্রাকে করে এসে হিন্দু যুবকদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে । এরপর বিষয়টি মিটে গেছে বোঝানোর চেষ্টা করে সে চলে যায়। তবে, এটি ছিল একটি বৃহত্তর হামলায় সূচনা।
সংঘর্ষের প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা জড়ো হলে, ফিরোজ রাজাক মেমন, শোয়েব সিদ্দিকী মোখা, আমান করিম মেমন, আকরাম জুসাব মেমন, মজিদ ইব্রাহিম কেওয়ারা এবং অন্যদের সঙ্গে ফিরে আসে রাজাক সিদ্দিকী। জানা গেছে, তারা গ্রামবাসীদের পিষে ফেলার উদ্দেশ্যে দ্রুত গতিতে বোলেরো গাড়িটি তাদের দিকে চালিয়ে দেয়। গ্রামবাসীরা সরে যেতে সক্ষম হলেও, গাড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখা একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এফআইআর-এ এটিকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে, অভিযুক্তরা আরও লোক ডেকে আনে। শীঘ্রই, ভারনোরা গ্রাম থেকে লাঠি, পাইপ, পাথর এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে করে বিপুল সংখ্যক মুসলমান এসে পৌঁছায়। হানিফ, উমর, রেহান, দাউদ, এজাজ, আফতাব, আলতাফ এবং অন্যদের বহনকারী আরেকটি বোলেরো গাড়িও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, জনতা প্রথমে বৈদ্যুতিক খুঁটির তার ছিঁড়ে পুরো গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর তারা গ্রামের প্রবেশদ্বারে জড়ো হওয়া হিন্দু গ্রামবাসীদের এবং আবাসিক এলাকার বাড়িগুলিতে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পাথর ছোড়ার ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অনেকে তাদের বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
দর্শন বারদিয়া এবং রাজেশ চাভদাসহ বেশ কয়েকজন হিন্দু যুবক আহত হন। রাজেশ চাভদার বাম চোখের কাছে গুরুতর আঘাত লাগে। অন্তত একজন যুবক গুরুতরভাবে আহত হন, এবং আরও তিন থেকে চারজন সামান্য আঘাত পান। এছাড়াও, পুলিশের যানবাহনের ওপরও হামলা চালানো হয়।
মাধাপুর থানা ও স্থানীয় অপরাধ শাখার (এলসিবি) পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা তাদের যানবাহনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানায়। পাথর ছোড়ার ফলে এলসিবির একটি গাড়িসহ দুই থেকে তিনটি পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
হিন্দু যুব সংগঠনের নেতা রঘুবীর সিং জাডেজা এই হামলাকে “জিহাদি চিন্তাভাবনার” ফল বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি পূর্ব-পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। ওপইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, এভাবে একটি গোটা হিন্দু গ্রামকে লক্ষ্যবস্তু বানানো একটি বিরল ঘটনা এবং হামলার আগে বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জনতা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছিল। তারা শিকল বহন করছিল, যা তারা বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে লাগিয়ে পুরো গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ শর্ট-সার্কিট করে দেয়। রঘুবীর সিং আরও বলেন, দেশের অন্যান্য অংশের হিন্দু সম্প্রদায়কে এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ প্রধানের উপস্থিতিতেই মুসলিম জনতা পাথর ছুঁড়ে মারে, এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি ভার্নোরা গ্রামকে “জিহাদিদের আস্তানা” আখ্যা দিয়ে সেখানে তল্লাশির দাবি জানান এবং ওই এলাকায় অতীতে গরু জবাই ও অবৈধ গরুর মাংস ব্যবসার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি মুসলিম- সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রামটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি করেন।
কচ্ছ পশ্চিমের পুলিশ সুপার বিকাশ সুন্দা বলেছেন, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেই রাতেই প্রায় ২৩ জনকে আটক করেছে। নামধারী ২৩ জন অভিযুক্ত এবং পাঁচ থেকে সাতজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনএস-এর প্রাসঙ্গিক ধারা, যার মধ্যে গুজরাট পুলিশ আইনের ১০৯(১), ১১৫(২), ১১৮(১), ১২৫(এফ), ১২৫(বি), ১৮৯(২), ১৯০, ১৯১(২), ১৯১(৩), ৩৫১(৩), ২৯৬(বি) ধারা এবং ১৩৫ ধারা অন্তর্ভুক্ত, এর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে হত্যাচেষ্টা, বেআইনি সমাবেশ, মারাত্মক অস্ত্রসহ দাঙ্গা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী বেপরোয়া গাড়ি চালানো।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সেলিম মামাদ মোখা, আবু সুফিয়ান মোখা, সাহিল সিদ্দিকী মোখা, আব্বাস মামাদ মোখা, সামির আব্দুল মেমন, রাজাক সিদ্দিকী মের, ফিরোজ রাজাক মেমন, শোয়েব সিদ্দিকী মোখা, আমান করিম মেমন, আকরাম জুসাব মেমন, মজিদ ইব্রাহিম কেওয়ারা, হানিফ রামজু কেওয়ারা, হানিফ আজিজ মেমন, উমর আজিজ মেমন, রেহান হানিফ খলিফা, ইব্রাহিম মামাদ মেমন, দাউদ ইব্রাহিম কেওয়ারা, এজাজ উমর মের, সামির আজিজ মেমন, আফতাব হানিফ কেওয়ারা, আজাদ মামাদ কেওয়ারা, আলতাফ লতিফ কেওয়ারা এবং মামাদ লাখা মোখা প্রমুখ ।
পুলিশ ভার্নোরা গ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে শীঘ্রই বুলডোজার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে।।
★ওপি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের অনুবাদ ।
