প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৭ অক্টোবর : রেলের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ১৯ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক । ধৃতের নাম সায়ন্তন সান্যাল। জগদ্দল থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ সোমবার ভোরে উত্তর ২৪পরগনার শ্যামনগরে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী হলেন পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার সেহারাবাজারে বাসিন্দা বিশ্বরুপ সাহা । তিনি পেশায় রেলের ঠিকাদার । অন্যদিকে সায়ন্তন সান্যালও পেশায় ঠিকাদার। সেই সাথে তিনি বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর আপ্ত সহায়কের দায়িত্বও সামলাতেন । যদিও পুজোর মধ্যেই বিধায়ক তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে । এদিকে একই পেশায় যুক্ত থাকায় বিশ্বরুপ সাহার সঙ্গে সায়ন্তন সান্যালের পরিচয় হয় । দু’জনের মধ্যে আর্থিক লেনদেন চলতো। সায়ন্তন মাঝেমধ্যেই বিশ্বরূপের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং পরে তা ফেরতও দিতেন। এর ফলে দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে জানান বিশ্বরুপবাবু ।
তার অভিযোগ,সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সায়ন্তন গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে মোট ২৫ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা ধার নেন। পরে সায়ন্তন নিজের স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। কিন্তু বাকি ১৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকাও পরে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও দিচ্ছিল না বলে অভিযোগ তার ।
বিশ্বরুপবাবু বলেন,’চলতি বছরের ১৭ মার্চ এসএমএস করে সায়ন্তন জানায় যে,তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে আমার অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে । কিন্তু সেই টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি । এরপর একাধীকবার তিনি সায়ন্তনের কাছে টাকা ফেরত চাই । কিন্তু টাকা ফেরত পাইনি । উল্টে তিনি নানা অছিলায় টাকা ফেরত দেওয়া এড়িয়ে যেতে থাকেন ।’ এমনকি, বিশ্বরুপ যোগাযোগও এড়িয়ে চলতে শুরু করেন বলে দাবি তার । যেকারণে তিনি বর্ধমানের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের দ্বারস্থ হন।
জানা গেছে,সম্প্রতি মামলা রুজু করে তদন্তের জন্য বর্ধমান থানার আইসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। শেষ পর্যন্ত পুলিশ সায়ন্তন সান্যালকে গ্রেপ্তার করে।আজ মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে চার দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানায় পুলিশ । ধৃতের দু’দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বিচারক ।।
