এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৪ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও সরানোর পর থেকে “মেটা” এখন কঠিন পরিণতির মুখোমুখি । গতকাল যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে । তার মধ্যে প্রথম বিষয় হল প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য “মেটা”র মালিক মার্ক জাকারবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে।প্ল্যাটফর্মের কারও পক্ষ থেকে শুধু ক্ষমা চাইলেই চলবে না। এই ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের প্ল্যাটফর্মকে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও, শিশু পর্নোগ্রাফি নিয়ে ইউটিউবের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়েছে । কমিটি বলেছে,যদি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো শিশু পর্নোগ্রাফি এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রীর বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের জন্য উপলব্ধ আইনি সুরক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের বিধানগুলো বাতিল করা হবে ।
পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অ্যালগরিদমগুলো কেন এত অস্বচ্ছ এবং বিভ্রান্তিকর উপাদানে ভরপুর ? সিজেপি-র মতো অ্যাকাউন্টগুলো কীভাবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত প্রচারের চেয়েও বেশি প্রচার পায়? অ্যালগরিদম কীভাবে প্রচার বাড়ায়, সে বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রয়োজন ।
কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ ডঃ নিশিকান্ত দুবে বলেন,’দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, মেটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একটি কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলেছিল। মেটা ইন্ডিয়া যে এমন কাজ এই প্রথমবার করল, তা কিন্তু নয়। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে জাকারবার্গ নিজেই জানুয়ারি মাসে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং পরে তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এতেই বোঝা যায় যে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই তাঁর উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেছেন,’ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও যখন সরিয়ে ফেলা হতে পারে—এবং তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত—অর্থাৎ পাঁচ ঘণ্টা ধরে সেই কন্টেন্টটি দেখা যাচ্ছিল না—তখন এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। আমাদের কমিটি দুটি কথা বলেছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জাকারবার্গের পক্ষ থেকেই ক্ষমা চাইতে হবে। জাকারবার্গ যদি তা না করেন, তবে ধারা ৭৯-এর অধীনে তাঁকে দেওয়া ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা (আইনি দায়মুক্তি) প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’
সেই সাথে নিশিকান্ত দুবে বলেন,’সিএসএএম (CSAM) বা শিশু যৌন নিগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু হলো আরেকটি সমস্যা। ইউটিউবেও এমন কন্টেন্ট রয়েছে। মেটাতেও এমন কন্টেন্ট আছে এবং তারা শিশু নিগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলে না। নারীদের সংক্রান্ত বিষয়বস্তুও তারা অপসারণ করে না। ভারত সরকারের এই দুটি নিয়মই অত্যন্ত কঠোর; তার ওপর তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথাও শোনে না, আবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কথাও মানে না। তাই আমরা বলেছি যে, এই সব বিষয়ে—এবং আরও অনেক বিষয়ে—আপনারা জানেন যে তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মেটা ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন—এই সব ক্ষেত্রেই ‘সেফ হারবার’ সুবিধা প্রত্যাহার করা উচিত।’
