এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেরালা,০৪ নভেম্বর : ভুত ছাড়ানোর অছিলায় কিশোরীকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল কেরালার ইসলাম ধর্মপ্রচারক মহম্মদ নিয়াস জৌহারির বিরুদ্ধে ।প্রার্থনার মাধ্যমে রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেরালার কোল্লাম জেলার ওচিরার বাসিন্দা ওই ১৬ বছর বয়সী কিশোরীর উপর প্রায় ২ মাস ধরে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ । মেয়েটি তার বন্ধুদের কাছে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত রবিবার(১ নভেম্বর) ৩৪ বছর বয়সী ইসলাম ধর্মপ্রচারক মহম্মদ নিয়াস জৌহারিকে করুণাগাপ্পল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ধৃত আলাপ্পুঝা জেলার দেবিকুলাঙ্গারার বাসিন্দা। তিনি হাবিবিয়া ইসলামিক একাডেমির পরিচালক, যা এই ঘটনার পর সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে,কিশোরীর কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। কিশোরীটির স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জৌহরি পরিবারটির আস্থা অর্জন করেছিল। মহম্মদ নিয়াস জৌহারি পরিবারকে জানায় যে,মেয়েটির শরীরে অশুভ আত্মা ভর করেছে । এরপর অশুভ আত্মার প্রভাব থেকে মুক্ত করার’ উদ্দেশ্যে একটি পবিত্র আচারের নামে নাবালিকাটিকে যৌন নির্যাতন চালায় সে ।
একজন কর্মকর্তা বলেছেন,’জৌহারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ধর্মপ্রচারক হিসেবে জনপ্রিয়। ভুক্তভোগীর পরিবার তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজগুলো অনুসরণ করত। গত বছর মেয়েটি এবং তার ঠাকুমা তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল, যেটি ইসলাম ধর্ম পালনের জন্য প্রতিষ্ঠিত। অভিযোগ রয়েছে, ওই ধর্মপ্রচারক মহিলাটিকে বোঝায় যে তিনি একটি অশুভ আত্মার প্রভাবে আছেন এবং তার একটি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, সে তাকে এবং মেয়েটিকে তার ভাড়া করা বাড়িতে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়, যেখানে সে গত অক্টোবর থেকে শুরু করে বেশ কয়েক মাস ধরে মেয়েটিকে বারবার যৌন নির্যাতন করে।’
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান,সম্প্রতি, নির্যাতনের মানসিক আঘাত নিয়ে বেঁচে থাকা মেয়েটি তার বন্ধুদের কাছে ঘটনাটি জানায়, যার ফলে ওই ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে মেডিকেল রিপোর্ট এবং মোবাইল ফোনের চ্যাট খতিয়ে দেখা হয়েছে । গত বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে সে একাডেমি, ভাড়া করা জায়গা এবং অন্যান্য এলাকায় নাবালিকা মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালাত।
শনিবার জৌহারিকে হেফাজতে নেওয়ার আগে তদন্তকারীরা তার মেডিকেল রেকর্ড এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করেছেন। তিনি অন্য মেয়েদেরও যৌন নির্যাতন করেছেন কিনা, কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছে। তারা তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং সেল ফোন পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে । এছাড়াও, তারা কোল্লাম জেলায় তার ইসলামিক স্কুলের সাথে সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য আর্থিক লেনদেনগুলোও খতিয়ে দেখছে।
জৌহরির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধর্ষণ ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক ধারা এবং শিশু যৌন নিপীড়ন (পকসো) আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। তিনি একজন জনপ্রিয় ধর্মপ্রচারক, যিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থনার আসর এবং ইসলামী শিক্ষা পোস্ট করেন। ইউটিউবে তাঁর ২.২৫ লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১.২৭ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে।।

