এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),৩১ মে : দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার পর থেকেই পূর্ব বর্ধমান জেলায় একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা বমাল ধরা পড়ছেন । আজ রবিবার সকালেই বন্যা দুর্গতদের বিলি করার জন্য পাঠানো বিপুল সরকারি ত্রাণসামগ্রী সহ গ্রেপ্তার হয়েছেন পুর্বস্থলী দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চ্যাটার্জি । ওই ত্রাণসামগ্রী তিনি নিজের বাড়ি সংলগ্ন অফিসে মজুত করে রেখেছিলেন । পুলিশ সেগুলি উদ্ধার করেছে । এই ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই তার ঠিক কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিপুল পরিমান ত্রাণসামগ্রী সহ আটক হলেন কাটোয়ার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায় ও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মৌমিতা সেনের স্বামী বিকাশ সেন । স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে বিকাশ সেনের গোডাউন ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের সভাকক্ষে মজুত করে রাখা ওই ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়। জনরোষের হাত থেকে দুই তৃণমূল নেতাকে কোনো রকমে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পুলিশ ।
জানা গেছে,তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা মৌমিতা সেনের স্বামী বিকাশ সেনের গোডাউনটি রয়েছে অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের রঘুনাথপুর গ্রামে । আর ওই গোডাউনে মজুত করে রাখা হয়েছিল বণ্যা দুর্গতদের বিলি করার জন্য পাঠানো ত্রিপল, ছোলা, ধানের বীজ, কীটনাশক প্রভৃতি ত্রাণসামগ্রী । কিন্তু দিকে দিকে ত্রাণসামগ্রী সহ তাবড় তৃণমূল নেতারা ধরা পড়ায় ভয় পেয়ে সেগুলি অন্যত্র সরানোর মতলব করেন বিকাশ সেন । কিন্তু ত্রাণ বোঝাই বস্তায় সরকারি ছাপ দেখে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের । তারা সেগুলি আটকে দেন । এরপর প্রচুর সংখ্যায় লোকজন জড়ো হয়ে গোডাউনে ঢুকতেই রাশি রাশি বস্তাবন্দি ত্রাণসামগ্রী দেখতে পায় ।
তবে শুধু বিকাশ সেনের গোডাউনই নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রামবাসীরা হানা দেয় পলাশী গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের সভাকক্ষে৷ সেখানেও তাদের নজরে পড়ে বিপুল পরিমান ত্রাণসামগ্রী । গ্রামবাসীদের অভিযোগ যে তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য নিতাইসুন্দর মুখার্জির মদতেই ওই ত্রাণসামগ্রী লুট করা হয়েছিল । এরপর ক্ষিপ্ত জনতা নিতাইসুন্দর মুখার্জি ও বিকাশ সেনকে ধরে গনধোলাই দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে৷ কিন্তু খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে ওই দুই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয় ।।
