অবশেষে অভিবাসন রুখতে হাতে অস্ত্র তুলে নিল আইরিশ যুবকরা । সেকুলারিজমের নামে মুসলিম তোষামোদকারী বামপন্থী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ‘নিউ রিপাবলিকান মুভমেন্ট’ (New Republican Movement) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী । ভিডিওতে বলা হয়েছে, “আপনারা আমাদের এলাকাগুলোকে সামরিক বয়সের পুরুষ অভিবাসীদের দিয়ে পূর্ণ করে ফেলেছেন।আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মকে ধ্বংস হতে দেখে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। আমরা চাই না আয়ারল্যান্ডের রাস্তায় সুদানি অভিবাসীরা আমাদের কোনো বাসিন্দাদের শিরশ্ছেদ করার চেষ্টা করুক।”
প্রসঙ্গত,রাজনৈতিক স্বার্থে নিজেদের দেশে বিদেশি মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপক হারে আশ্রয় দিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলি । বিশেষ করে ব্রিটেনে শরণার্থীদের ভিড় এতটাই বেড়ে গেছে যে কার্যত গোটা দেশের জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে । তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘটছে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা । শুধু তাইই নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে মুসলিম শরণার্থীরা ৷ তারপরেও দেশগুলির বামপন্থী সরকারগুলির শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও প্রতিবাদীদের প্রতি কঠোর মানসিকতা গনরোষের জন্ম দিয়েছে । সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে প্রকাশ্য রাস্তায় একের পর এক ছুরি হামলার ঘটনার পর সেই গনরোষ এখন চরম আকার ধারন করেছে ।
গত সোমবার রাত প্রায় সাড়ে দশটায় আয়ারল্যান্ডের উত্তর বেলফাস্টের কিনায়ার্ড অ্যাভিনিউতে এক আফ্রিকান মুসলিম অভিবাসী দ্বারা এক আইরিশ যুবককে রাস্তার ফেলে শব্জি কাটার ছুরি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে কেটে শিরোচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হয় । তার জের মিটতে না মিটতেই শুক্রবার বিকেলে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার প্রদেশের বার্নলির কাছে ব্রিয়ারফিল্ডের রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময় এক সুদানি অভিবাসী এক ব্রিটিশ কিশোরীর পিছন দিক থেকে আচমকা ছুটে এসে ছুরি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে কেটে শিরোচ্ছেদ করার চেষ্টা করে । দ্বিতীয় ঘটনা প্রসঙ্গে পাকিস্তানি বংশভূত ব্রিটিশ নাগরিক ইমতিয়াজ মেহমুদ টুইট করেছেন,’রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ঘাড়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়া এক কিশোরীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার বিকেল ৩টার (বিএসটি) দিকে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্রায়ারফিল্ডের উড স্ট্রিট ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী হামলার শিকার হয়। হামলার ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ তাকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। বিবিসি-র তথ্যমতে, আক্রান্ত কিশোরীও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি ঘটনা ছিল, তবে সৌভাগ্যবশত কিশোরীর আঘাতগুলো প্রাণঘাতী ছিল না।”
“চিকিৎসা ও সেবা পাওয়ার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং সে পরিবারের সহায়তায় বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছে।”তারা আরও জানান যে, “গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ দল তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে” এবং এ ঘটনায় “আর কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাকি নেই”।
এদিকে পর পর এই প্রকার ঘটনায় ক্ষোভের আগুন জ্বালছে ইংল্যান্ডে । বহু অভিবাসীদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে যানবাহন। সোশ্যাল মিডিয়া দেশের কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন ব্রিটিশ নাগরিকরা৷ জিম চিমিরি (@Jchimirie66677) নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী একটি বড়সড় পোস্ট করে সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন । তিনি লিখেছেন,আজ রাতে বেলফাস্ট। আগামীকাল ব্রিটেন। যাত্রাপথ নির্ধারিত হয়ে গেছে।
সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টের একটি আবাসিক রাস্তায় এক ব্যক্তিকে চেপে ধরে তার মুখ ও ঘাড়ে বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়। সাধারণ মানুষ এতে বাধা দেয়; একজন তো খেলার ‘হার্লিং স্টিক’ (এক ধরণের হকি লাঠি) ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই তিনটি বাড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পণ্যের একটি সুপারমার্কেটে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পাশের বাড়িগুলো থেকে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাজনীতিবিদরা শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এই রাতটির কথা মনে রাখবেন। কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা বলে নয়, বরং এটি কোনো ব্যতিক্রম নয় বলেই।পরিস্থিতি ঠিক এই দিকেই মোড় নিচ্ছে। বিশ বছর পর নয়, এখনই। বেলফাস্ট টানা তিন বছর ধরে অভিবাসন-কেন্দ্রিক গুরুতর বিশৃঙ্খলার সাক্ষী হয়েছে। প্রতিবারই একই চক্র—আক্রমণ, ক্ষোভ, বিশৃঙ্খলা, শান্ত থাকার আহ্বান, এবং তারপর… কিছুই না। এরপরই ঘটে পরবর্তী ঘটনা। বেলফাস্টে যা ঘটছে তা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা আকস্মিক বিচ্যুতি নয়; এটিই গন্তব্য। যে রাষ্ট্র সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে পারে না, তারা কেবল পরিণতির ব্যবস্থাপনাকেই শাসনকার্য বলে চালিয়ে দেয়।
এবার ভবিষ্যতের দিকে তাকান। কল্পনার চোখে নয়, গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে। ২০১৮ সাল থেকে ছোট নৌকায় করে দুই লাখেরও বেশি মানুষ এখানে এসেছে। এদের অধিকাংশই এমন সব দেশের তরুণ যাদের কোনো যাচাই-বাছাই করা হয়নি এবং যাদের সংস্কৃতির সাথে আশ্রয়দাতা সমাজের কোনো মিল নেই। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্মতি ছাড়াই তাদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র চার শতাংশকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। সরকার জানে যে বাকি ছিয়ানব্বই শতাংশ এখানেই থেকে যাবে কিনা । তারা এই পরিস্থিতি উল্টে দেওয়ার পরিবর্তে একে কেবল ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর এই সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের ঘনত্ব বাড়ছে। প্রতি বছর বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি।
দশ বছর পর এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো কেবল কয়েকটি রাস্তা বা পাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সেগুলো একেকটি স্বতন্ত্র এলাকায় পরিণত হবে। বিশ বছর পর সেগুলো হয়ে উঠবে শহরের ভেতরেই আরেক শহর—যেখানে সমান্তরাল কর্তৃপক্ষ শাসন চালাবে এবং বাসিন্দারা সমান্তরাল আনুগত্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। ফ্রান্সে আমরা এমনটা ঘটতে দেখেছি। সেখানকার ‘বঁলিয়্যু’ (শহরতলির অভিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা) গুলো গড়ে উঠেছিল ধাপে ধাপে—এক একটি আবাসন আর এক একটি পিছু হটার ঘটনার মধ্য দিয়ে—যতক্ষণ না ফরাসি রাষ্ট্র সেখানে কেবল বিশাল পুলিশি শক্তি ছাড়া প্রবেশ করা বন্ধ করে দেয়। ব্রিটেনও একই পথে হাঁটছে, তবে অনেক দ্রুত গতিতে।
এমন উসকানি বা ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। পুলিশের কোনো পদক্ষেপ, কোনো বিদেশি সংঘাতের আঁচ সরাসরি ব্রিটিশ রাস্তায় এসে পড়া, কোনো আইনি মামলা, কোনো গ্রেপ্তার কিংবা কোনো ভাইরাল ভিডিও—যেকোনো কিছুই স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে। কারণ, সরকারি নীতির মাধ্যমেই দাহ্য উপাদান সাজিয়ে রাখা হয়েছে এবং অবহেলার কারণে তা শুকিয়ে প্রস্তুত হয়ে আছে। তখন এই দাঙ্গা কেবল এক শহরের এক রাতের ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এরা ছড়িয়ে পড়বে—যেমনটা ফ্রান্সে হয়েছিল, যেমনটা গত গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডজুড়ে দেখা গিয়েছিল—কারণ এই ক্ষোভ কোনো স্থানীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা। আর পরিস্থিতির প্রতিটি পর্যায়ে উভয় পক্ষের ক্ষোভ ও রোষ আরও তীব্র ও কঠোর হতে থাকবে।
বর্তমান গতিপথ বজায় থাকলে জনশৃঙ্খলা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। পুলিশ এখন আর কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পরিবর্তে সমঝোতার পথ বেছে নিচ্ছে। নীরবে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, অনেক ঘটনার কোনো নথিপত্রই তৈরি হচ্ছে না। ‘শান্তি’ বলতে যা বোঝায়, তার মানদণ্ড কমিয়ে রাষ্ট্র পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। এই মানদণ্ড আরও নিচে নামতে থাকবে, কারণ এর বিকল্প পথটি হলো এমন সব বিষয়ের মুখোমুখি হওয়া—যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল গত ত্রিশ বছর ধরে কোনো কথা বলতে বা মোকাবিলা করতে অস্বীকার করে আসছে।
রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন জনমিতিক বিন্যাসের কাছে নতিস্বীকার করবে; আসলে তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থীরা নির্বাচিত হচ্ছেন বিদেশের কোনো সংঘাত বা ইস্যুকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় কাউন্সিলগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গোষ্ঠীভিত্তিক বা সাম্প্রদায়িক ‘ব্লক ভোটিং’-এর মাধ্যমে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের কাছে দায়বদ্ধ থাকছেন। জনমিতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।
এই যাত্রাপথের কোনো এক পর্যায়ে এমন একটি ঘটনা ঘটবে যা আর সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। হয়তো ব্যাপক প্রাণহানির কোনো হামলা, কিংবা এমন কোনো দাঙ্গা যা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহের রূপ নেবে। অথবা এমন কোনো বর্বরোচিত ভিডিও সামনে আসবে যা ‘নিয়ন্ত্রিত নীরবতা’ বজায় রাখার বিষয়ে বিদ্যমান রাজনৈতিক ঐকমত্যকে ভেঙে চুরমার করে দেবে। এরপর যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, তা হবে অনেক বেশি অনিয়ন্ত্রিত, অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অপরিবর্তনীয়—যা পনেরো বছর আগে (যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল) সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ হবে।
তিনি লিখেছেন, ব্রিটেন যে পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা কোনো অসতর্ক বা অচেতন পদক্ষেপ নয়। সবার চোখ খোলা, সবাই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং সচেতনভাবেই এই পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর বহিষ্কার ব্যবস্থা এবং সৎ রাজনৈতিক পর্যালোচনার অভাবে প্রতিটি সপ্তাহ এমনভাবে কেটে যাচ্ছে, যাতে ওপরে বর্ণিত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও নিশ্চিত ও অনিবার্য হয়ে উঠছে।
সোমবার রাতের বেলফাস্টের ঘটনা কোনো সতর্কবার্তা নয়। সতর্কবার্তা তো বহু আগেই এসেছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। সোমবার রাতের বেলফাস্ট হলো সেই পরিস্থিতির ‘বিল’ বা মাশুল আসা শুরু হওয়ার মুহূর্ত।
লর্না স্মিথ নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,আমাদের আর বিভ্রান্ত বা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন না । গত রাতের হামলাটি উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের বাকি অংশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।হামলাটি চলার সময়, তিনজন সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন এবং আক্রমণকারীর হাত থেকে ভুক্তভোগীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
সমস্যাটা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তোলা নিয়ে নয়।
সমস্যাটা সেই নেতাদের নিয়ে যারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।সমস্যাটা সেই রাজনীতিবিদদের নিয়ে যারা মানুষের উদ্বেগের কথা শোনার বদলে তা উড়িয়ে দেন।সমস্যাটা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির, যা নাগরিকদের কথা শোনার বদলে তাদের গায়ে কোনো না কোনো তকমা এঁটে দেয়।
ঘটনাটি ঘটার পরপরই গত রাতে আমি সেই ভিডিও ফুটেজটি দেখেছিলাম।একজন প্রবীণ সেনাসদস্য হিসেবে, দৃশ্যটি আমাকে যতটা বিচলিত করেছিল তা আমি হয়তো পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারব না।সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের সুবাদে মানুষ কী ধরনের কাজ করতে সক্ষম, তা দেখার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।সেই দৃশ্যগুলো আমাকে লি রিগবির (Lee Rigby)-র কথা মনে করিয়ে দিল।আমি ঘুমাতে পারিনি।সেই তরুণটির ওপর চালানো বর্বরোচিত হামলার কথা আমি বারবার ভাবছিলাম।তার পরিবারের কথা আমার মাথায় ঘুরছিল।এরপর আমার নিজের মেয়ের কথা ভাবলাম।কারণ দিনশেষে আসল বিষয়টি তো সেটাই।রাজনীতিবিদ নয়।রাজনৈতিক দল নয়।গোত্রীয় আনুগত্য নয়।সোশ্যাল মিডিয়াও নয়।আমাদের সন্তানরা।তাদের ভবিষ্যৎ।তাদের নিরাপত্তা।
তাদের জন্য আমরা কেমন দেশ রেখে যাচ্ছি—সেটাই আসল কথা।আমি আমার দেশের জন্য শঙ্কিত।তবে তার চেয়েও বেশি শঙ্কিত আমার মেয়ের জন্য।তার প্রজন্মের জন্য আমার ভয় হয়।তাদের জন্য আমরা যে দেশ রেখে যাচ্ছি, তা নিয়ে আমি চিন্তিত।আর আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি এটা দেখে যে, পশ্চিমা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন যেসব বিষয়ে উদ্বেগ বোধ করছেন, তা প্রকাশ করলেই সাধারণ মানুষকে খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।এই ঘটনার পর লাইভ স্ট্রিমে যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গালিগালাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমার কোনো ঘৃণা নেই।বরং তাদের জন্য আমার করুণা হয়।কারণ নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর আক্রমণ চালাতে গিয়েও আপনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পারেননি।আমরা একে অপরের শত্রু নই।সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত ক্যাথলিক ফাদার আমার শত্রু নন।রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রোটেস্ট্যান্ট মা আমার শত্রু নন।আমার চেয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিবেশীও আমার শত্রু নন।আমরা সবাই একই সিদ্ধান্তের পরিণতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।আমরা সবাই একই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোর সময় শেষ হয়ে গেছে।ইসরায়েলি পতাকা ওড়ানোর সময়ও শেষ।কমলা ও সবুজ রঙের রাজনীতির সময় শেষ।একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার সময়ও শেষ।দীর্ঘদিন ধরে আমরা অতীতের বিতর্কে নিজেদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি, অথচ বর্তমানের সমস্যাগুলো ক্রমশ বড় আকার ধারণ করেছে।নিজেদের মধ্যে লড়াই করে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড অনেক সময় পার করেছে। হয়তো এখন সময় এসেছে সেইসব রাজনীতিকদের কথায় না চলার—যারা বিভাজন থেকে ফায়দা লোটে—এবং এটা উপলব্ধি করার যে, যারা আমাদের মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রাখে তাদের তুলনায় একে অপরের সাথে আমাদের মিলই অনেক বেশি।
কারণ গত রাতের ঘটনা যদি আমাদের কোনো শিক্ষা দিয়ে থাকে, তবে তা হলো এই:যখন একজন মানুষের জীবন সংকটাপন্ন ছিল, তখন কোনো রাজনীতিক এগিয়ে আসেননি।কোনো আন্দোলনকর্মীও এগিয়ে আসেননি।কোনো ভাষ্যকারও এগিয়ে আসেননি।বরং এগিয়ে এসেছিলেন তিনজন সাধারণ মানুষ।আর সম্ভবত অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এই বিষয়টিই আমাদের সমাজের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু বলে দেয়।।
