এইদিন ওয়েবডেস্ক,বিজয়ওয়াড়া,৩০ সেপ্টেম্বর : অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া পুলিশ ২৮ বছর বয়সী কল্যাণী ওরফে দুর্গা নামে এক হিন্দু মহিলার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৫ বছর বয়সী মহম্মদ শফিকে গ্রেপ্তার করেছে। শফি ভবানীপুরমে একটি ছোট খাসির মাংসের দোকান চালাত । গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইব্রাহিমপাতনাম থানার অন্তর্গত ভিটিপিএস কুলিং ক্যানেল থেকে তার দেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
১৮ই সেপ্টেম্বর ভিটিপিএস কুলিং ক্যানেলের কাছে একটি মুণ্ডহীন ধড় পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ইব্রাহিমপাতনাম পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে । পরদিন, ড্রোন ও এনডিআরএফ কর্মীদের সহায়তায় পুলিশের দল খালটিতে তল্লাশি চালিয়ে ভুক্তভোগীর মাথা, পা এবং দেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি হাতের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দেহাবশেষ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহটির বিবরণ শেয়ার করার পর কল্যাণীকে শনাক্ত করা হয়। তার ভাই ও আত্মীয়রা তার হাতের একটি ট্যাটু এবং অন্যান্য বিবরণ দেখে তাকে চিনতে পারেন। ঘাতক অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী মহম্মদ শফিকে ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
পশ্চিম অঞ্চলের এসিপি এনএসভিকে দুর্গারাও বলেছেন, কল্যাণী পশ্চিম গোদাবরী জেলার চিন্না টাটিনাদা গ্রামের ২৮ বছর বয়সী কল্যাণী ওরফে দুর্গা একজন অর্ধ-অনাথ। গুন্টুর জেলার মঙ্গলাগিরির এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হওয়ার আগে তিনি গান্নাভারামের একটি এনজিও হোমে তাঁর শৈশব কাটিয়েছিলেন । এই দম্পতির একটি ছেলে ছিল, কিন্তু পরে পারিবারিক সমস্যার কারণে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং কল্যাণী একা থাকতে শুরু করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবানীপুরমের মাংসের দোকান চালানো শফির সঙ্গে সম্পর্কে ছিল কল্যাণীর । ১৭ সেপ্টেম্বর, শফি তাকে ডেকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলে সে সেখানে যায়। তার আগেই শফির স্ত্রী ও সন্তানদের গুন্টুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।টাকা এবং শফির পরিবারের তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুটিকে নিয়ে কল্যাণী ও শফির মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শফির কাছে টাকা দাবি করছিল কল্যাণী । পুলিশ আরও জানায়, তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শফি ছুরি দিয়ে কল্যাণীকে আক্রমণ করে এবং তার গলা কেটে দেয়।
এরপর অপরাধটি এক অত্যন্ত নৃশংস মোড় নেয়। পুলিশের অভিযোগ, কল্যাণীকে হত্যা করার পর শাফি তার পরিচয় গোপন করতে এবং দেহ গুম করা সহজ করার উদ্দেশ্যে তার মাথা, পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ কেটে ফেলে।অভিযোগ উঠেছে, দেহাবশেষগুলো পরিবহন করে গোল্লাপুডি এলাকার শীতলীকরণ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে এসিপি দুর্গারাও বলেন, ‘বিষয়টা ছিল শিশু ও টাকা নিয়ে। সে শিশুটিকে হস্তান্তর করে বারবার টাকা দাবি করছিল । কল্যাণী একবারে ৫,০০০ বা ১০,০০০ টাকা করে চাইছিল এবং অভিযুক্ত তাকে ছোট ছোট সোনার গয়নাও কিনে দিয়েছিল ।’
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণের সাহায্যে শাফিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তের বন্ধু হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহকে একজন সহযোগী হিসেবে শনাক্ত করেছে। যে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে যে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ কর্মকর্তা দুর্গা রাও জানান, কল্যাণীর ছেলে বর্তমানে শাফির স্ত্রীর কাছে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ শিশুটির হেফাজতের বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে এবং তাকে আইসিডিএস বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইব্রাহিমপাতনাম সার্কেল ইন্সপেক্টর সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, অজ্ঞাতপরিচয় নারী সম্পর্কে তথ্য প্রদানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কল্যাণীর আত্মীয়দের তাকে চিনতে সাহায্য করেছে এবং মামলাটি সমাধানে পুলিশকে সহায়তা করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সকলের ভূমিকা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।।

