প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৮ এপ্রিল : রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে । ইতিমধ্যে প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গেছে । তার আগে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার আইসি-এর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মন্তেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী । তিনি দাবি করেছেন,সোমবার রাতে স্থানীয় তুল্যা গ্রামের তৃণমূল কর্মী-সমর্থক মুসলিম পরিবারের কয়েকজন মহিলাকে মন্তেশ্বর থানার আইসি-সহ কয়েকজন পুলিশ অফিসার গিয়ে বলে এসেছেন যে “তৃণমূলকে ভোট দিলে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হবে,জেলের ভাত খাওয়ানো হবে” । আজ মঙ্গলবার কয়েকজন বধূকে সঙ্গে নিয়ে মন্তেশ্বরের নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবি করেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। যদিও তৃণমূল প্রার্থীর আনা এই অভিযোগ নিয়ে মন্তেশ্বর থানার আইসি সোমনাথ ভট্টাচার্য্য সংবাদ মাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কটাক্ষ,পরাজয়ের আভাস পেয়ে স্বরচিত নাটকের স্ক্রিপ্ট পড়ছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ।
আজ মন্তেশ্বরের নির্বাচনী কার্যালয়ে তুল্যা গ্রামের কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন সিদ্দিকুল্লাহ । ওই মহিলারা কেউ নিজেকে সুলতানা বেগম খান,কেউ আজমিরা বিবি খান,কেউ মহিমা খান, কেউ আনহারা খান, আবার কেউ সাকিনা বিবি নামে নিজেদের পরিচয় দেন । মহিলাদের কথায়, তাঁদের স্বামীরা বাইরে কাজ করেন। অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন । তাদের অভিযোগ,সোমবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁদের গ্রামে পুলিশের ৪ টি গাড়ি ঢোকে। সেই গাড়িগুলি রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ঠাসা ছিল।তার মধ্যে কোনও মহিলা পুলিশ ছিলেন না। রাতে বাড়ি বাড়ি দরজা ঠেলে পুলিশ তাঁদের ঘুম থেকে তোলে । স্বামী-ছেলে কোথায় থাকে,কী করে, এসব জানতে চায় । তার পরেই মন্তেশ্বর থানার বড়বাবু এবং আর এক পুলিশ অফিসার শাসানি দিয়ে যায়,’ভোটের দিন পরিবারের কেউ যেন টিএমসির হয়ে ভোট না দেয় ।ভোটে যেন কেউ মাতামাতি না করে,ভোটটা যেন ঠিক জায়গাতেই পড়ে। না হলে পিঠের চামড়া তুলে নেবে।’ এমন হুমকি শাসানিতে ‘চরম অপমানিত’ বোধ করছেন বলে এই বধূরা দাবি করেছেন ।
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,’কোনো মহিলা পুলিশ কর্মী ছাড়া সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তুল্যা গ্রামের গৃহবধূদের ঘুম থেকে তোলেন মন্তেশ্বর থানার আইসি সোমনাথ ভট্টাচার্য্য এবং এক সাব-ইন্সপেক্টর সুভাষ ভৌমিক। তার পর এই দুই পুলিশ অফিসার ওই বধূদের হুমকি দেয় ।’তিনি এও বলেন,এই নৈরাজ্য সন্ত্রাস চলতে পারে না।মন্তেশ্বরে অবাধ শান্তিতে ভোট করতে ওই ২ পুলিশকর্মীকে অবিলম্বে সরাতে হবে।’এই দাবির কথা তিনি রাজ্য ও জেলার নির্বাচন কমিশন সহ পুলিশ অবজার্ভারকেও জানিয়েছেন বলে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দাবি করেছেন।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, ‘পুলিশ কি এখন বিজেপির হয়ে ভোট করানোর ঠিকা নিয়েছে ?তাইকি ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে পুলিশ ভোটারদের চমকাচ্ছে ? পিঠের ছালচামড়া তুলে নেওয়া ও জেলে ভরার হুমকি দিচ্ছে?’
যদিও তৃণমূল প্রার্থীর এই অভিযোগ কে পরাজয়ের অভাস পেয়ে স্ক্রিপ্টেড নাটক বলে অভিহিত করেছেন মন্তেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা। তিনি বলেন,’পরাজয়ের অভাস পেয়ে গিয়েছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী । তাই ভোটের আগের দিন নিজের লেখা স্ক্রিপ্ট মোতাবেক একটি মিথ্যা নাটক মঞ্চস্থ করেছেন । তবে এসব করে কিছু লাভ হবে না। মন্তেশ্বরে এবার পদ্ম ফুটতে চলেছে ।’।
