এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৬ নভেম্বর : অবৈধ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে এক বড় অভিযানে,রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন,জনশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এক বড় সাফল্য হিসেবে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) স্থানীয় পুলিশ ইউনিটগুলির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ে দুটি নির্ণায়ক অভিযান সফলভাবে চালিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণে অবৈধ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানিয়ে লিখেছেন,সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, আমাদের এসটিএফ বীরভূম জেলার মুররাই থানার অন্তর্গত বরুয়া গোপালপুরে একটি অবৈধ আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডেটোনেটর এবং ৯,৯০০ মিটার ডেটোনেটিং কর্ড উদ্ধার করেছে। এই উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া,আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বরে আরেকটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে, অবৈধ কয়লা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এক কুখ্যাত অপরাধীর কাছ থেকে ৬টি লম্বা মাস্কেট, ৪টি পিস্তল (৭ মিমি) এবং ১১টি পাইপগান সহ ২১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, আমাদের সরকার অপরাধী চক্র, অবৈধ অস্ত্র এবং পশ্চিমবঙ্গের শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টাকারী যেকোনো সমাজবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একটি আপসহীন শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখে। জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি যাতে আইনের পূর্ণ শক্তির সম্মুখীন হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের রাজ্যকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং এসটিএফ-এর অফিসার ও কর্মীদের তীক্ষ্ণ সতর্কতা, দ্রুত সমন্বয় এবং নিরলস নিষ্ঠার জন্য আমি তাদের প্রশংসা করি।
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে,ঘটনা গতকাল ভোররাতের। রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের( STF) বিশেষ অভিযান চলল বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত বড়ুয়া গোপালপুর গ্রামে দুষ্কৃতীদের একটি গোপন ডেরায়। উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। কী নেই তালিকায়? ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯টি ডিটোনেটর এবং ১২,০০০ মিটার ডিটোনেটিং কর্ড! ঘটনায় গ্রেফতার দুই দুষ্কৃতি, যারা মজুত করেছিল এই বিস্ফোরক-ভাণ্ডার। নাম, মহম্মদ রেজা শেখ এবং মুকেশ সিং।
কেন মজুত করা হয়েছিল এত বিস্ফোরক? কোথা থেকে জোগাড় হয়েছিল? নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিছু? প্রশ্ন একাধিক। উত্তর খুঁজতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। চলছে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলির সম্ভাব্য ব্যবহার-সংক্রান্ত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের অ্যান্টি- টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)।
ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে,শুধু বিস্ফোরক নয়, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারেও রাজ্য জুড়ে লাগাতার চলছে STF-এর অভিযান। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর দুটি আলাদা অভিযানে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ২১টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ। ঘটনায় ধৃত অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান অবৈধ কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই মামলার সূত্রেই গ্রেফতার হয়েছে খাইরুল আলম ও মহম্মদ সামশের নামের দুই দুষ্কৃতি। যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৭টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৭ রাউন্ড কার্তুজ। লেখা বাহুল্য, বেআইনি অস্ত্র এবং বিস্ফোরকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।।

