এইদিন ওয়েবডেস্ক,হুগলি,০৬ নভেম্বর : সিপিএম নাকি খেটে-খাওয়া মানুষের দল ! নিজের শাসনকালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে,তিনি রাজ্যের ১০০ শতাংশ কাজ করে দিয়েছেন ! কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে,এই রাজ্যের এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের সুবিধা পেলো । আর গ্রামটি হল হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকদহ গ্রাম । গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সিপিএমের জমানা থেকে তারা বিজেপির সমর্থক হওয়ায় প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে তারা সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ।
তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকদহ গ্রামটি আদিবাসী অধ্যুষিত । শ’চারেক পরিবারের বসবাস । যাদের অধিকাংশই প্রান্তিক কৃষক ৷ কিন্তু দেশের স্বাধীনতার পর থেকে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল । গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আশির দশক থেকে তারা বিজেপিকে সমর্থন করে আসছেন । আর এই অপরাধে তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল সিপিএম আর তৃণমূল কংগ্রেস । যেকারনে এতদিন কেরোসিনের হেরিকেনই একমাত্র ভরসা ছিল তাদের ।
২০২৬ সালের বিধানসভার ভোটের প্রচারে চাকদহ গ্রামে যান বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান । রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তিনি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলছে । বিধায়ক বলেন,’পালাবদলের পর চাকদহ গ্রামের বিদ্যুৎ লাইন বসানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানাই। মুখ্যমন্ত্রী আমার সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। অবশেষে বিদ্যুতের সংযোগ গেছে গ্রামটিতে ।’ তিনি আরও বলেছেন,’১০০টিরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ৫০টিতে ইতিমধ্যেই মিটার বসানো হয়েছে।’ দারিদ্র্যসীমার নিচের আয়ের পরিবারগুলো বিনামূল্যে সংযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি ।
এদিকে দিপাবলীর ঠিক মুখেই গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় এবারের আলোর উৎসব বিশেষ হতে চলেছে চাকদহ গ্রামবাসীর । স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে গ্রামবাসীদের বলেন, ‘দিপাবলীর দিন মোমবাতির পরিবর্তে আমরা লাইট জ্বালাব ।’।

