এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর দিনাজপুর,০৬ নভেম্বর : তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ঘন জঙ্গল থেকে কিশোরীর পচাগলা দেহ উদ্ধার হল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কুলিক ফরেস্ট সংলগ্ন আব্দুলঘাটার জঙ্গল থেকে । গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর, ২০২৬) থেকে ১২ বছর ৮ মাস বয়সী ওই কিশোরী রায়গঞ্জের একটি বস্ত্র বিতরণ কেন্দ্রে পোশাক আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় । বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর, ২০২৬) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের গভীরে তার দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা । কিশোরীর দেহটি পচন ধরে ফুলে গিয়েছিল এবং সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে । পরে কর্ণজোড়া ফাঁড়িত পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় । জানা গেছে, মৃতার নাম অলোকা ওরফে বর্ষা রায়(১৩) । তার বাড়ি কর্ণজোড়ার রায়পাড়া এলাকায় । মৃতার বাবার সন্দেহ, তার মেয়েকে অপহরণ করে বা ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে সামুহিক দুষ্কর্ম করে খুন করা হয়েছে এবং প্রমান লোপাটের জন্য ওই ঘন জঙ্গলে দেহটি ফেলে দেওয়া হয়েছে । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।
জানা গেছে,কর্ণজোড়ার রায়পাড়ার বাসিন্দা শঙ্কর রায়ের মেয়ে বর্ষা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল । তার স্বাস্থ্যের সমস্যার কারনে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া । গত মঙ্গলবার সকালে যখন তার বাবা-মা কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তখন মেয়েটি রায়গঞ্জ শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মসূচি থেকে বিনামূল্যে নিজের জামা আনার জন্য সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। তারপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি । পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেন । এমনকি বিহারে আত্মীয়দের কাছেও ফোনে খবর নেওয়া হয় । কিন্তু মেয়েটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি । এরপর কর্ণজোড়া ফাঁড়িতে একটি নিখোঁজ ডাইরি করে পরিবার ।
জানা গেছে, মেয়েটির বাড়ি থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দুরে রয়েছে রায়গঞ্জের কুলিক ফরেস্ট সংলগ্ন আব্দুলঘাটার জঙ্গল মহল । ওই জঙ্গলের এমন ঘন বন রয়েছে যে, দিনের বেলাতেও সচারাচর মানুষ সেখানে যায় না । কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুলঘাটার জঙ্গলে স্থানীয় কিছু মানুষ গেলে প্রচন্ড পচা দুর্গন্ধ পায় । কৌতূহল বশত তারা ঘন বনে প্রবেশ করলে এক কিশোরীর পচে ফুলে যাওয়া মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় তারা । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,মেয়েটি সম্পূর্ণ নগ্নবস্থায় ছিল এবং গলায় একটা দড়ির ফাঁস গাছের সঙ্গে বাঁধা ছিল। পরে মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকা পোশাক দেখে পরিবার তাকে সনাক্ত করে ।
এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের কিছু ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । তাদের অভিযোগ,বিকেল হলেই বহু অল্প বয়সী যুবকদের আনাগোনা বাড়ে এবং নেশার ঠেক বসে এলাকায় । নেশা করেই দুষ্কৃতীদল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অনুমান তাদের । পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার আগের মুহূর্তগুলোর যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে হত্যার আগে মেয়েটির সাথে দুষ্কর্ম্ম করা হয়েছিল কিনা ।।
