এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ নভেম্বর : ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন । এবারে এই মামলায় ইন্দ্রনীলের মেয়ে আভেরি সেনকে লালবাজারে তলব করা হল। মূলত এই দুর্নীতির মামলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার হেপাজতে থাকা ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তাঁর মেয়েকে তলব করে পুলিশ । আজ বৃহস্পতিবার লালবাজারে তাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ।
এদিকে ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে দুর্নীতির তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল পুলিশ । ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি এবার রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের অন্তত ১৫০টি টেন্ডার নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এস আইটি ।
লালবাজারের দাবি, ইন্দ্রনীলের সংস্থাগুলি থেকে তাঁর মেয়ে এবং স্ত্রী মধুছন্দা সেনের একাধিক অ্যাকাউন্টে কয়েক কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে। পরবর্তীকালে সেই টাকা আবার ইন্দ্রনীলের সংস্থার অ্যাকাউন্টে ফিরে এসেছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি। এই লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, কোন কাজের বিনিময়ে টাকা পাঠানো হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সরকারি টেন্ডারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে চান গোয়েন্দারা।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরপরই ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছিল, যার অন্যতম পদাধিকারী ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেন। অভিযোগ রয়েছে, ইউনেস্কোর নাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ইউনেস্কোর সঙ্গে আদতে ছিল না। এই সমস্ত অনৈতিক উপায়ে সংগৃহীত অর্থ গোপন করার জন্য ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী, কন্যা এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের নামে একাধিক ভুয়ো ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই গোয়েন্দাদের দাবি।
মাস আর্ট সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে এর আগে গ্রেফতার হন ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। পুলিশ সূত্রে খবর, মাস আর্ট সংস্থাটি ধ্রুবজ্যোতি এবং ইন্দ্রনীলের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল। এই সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন তাঁরা। বুধবার গ্রেফতার হন ধ্রুবজ্যোতি। আজ বৃহস্পতিবার ধ্রুবজ্যোতির আইনজীবী আদালতে তার জামিনের জন্য আবেদন জানিয়ে বলেন তাঁর মক্কেল আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ জাল নথির দাবি করলেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। অভিযোগকারীর আইনজীবীর যদিও দাবি, ধৃত ধ্রুবজ্যোতিই আসলে কিংপিন। তাঁর পাশাপাশি সরকারি আইনজীবীও ধৃতের জামিনের বিরোধিতা করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ধ্রুবজ্যোতিকে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট।
অন্যদিকে, জেরার মুখে ইন্দ্রনীল সেন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন দুর্নীতির বিষয়ে সব জানেন, তিনি নিজে কিছুই জানেন না। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। সেই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনে মধুছন্দাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। সব মিলে এই দুর্নীতি কান্ডে চরম ফেঁসে গেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন ।।
