এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১২ অক্টোবর : বাড়িতে মুখোশধারীদের বোতল হামলাকারীদের “হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা” বলে অবিহিত করেছিলেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য । সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই শব্দ সংশোধন করার জন্য ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন । কিন্তু তারপরও নিজের পোস্ট সংশোধন করেননি বিকাশ । এদিকে ইতিমধ্যেই কলকাতার গরফা ও কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয় বিকাশের বিরুদ্ধে । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিএমের নেতাকে আগামী ১৩ অক্টোবর গরফা থানা এবং ১৪ অক্টোবর কসবা থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে৷ জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে । এদিকে রাজ্যের একের পর এক থানায় বিকাশের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে ৷
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৫টা নাগাদ বিকাশ রঞ্জনের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। মদের বোতল ছুড়ে জানলার কাচ ভাঙচুর এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় বিকাশের একটি পোস্ট ঘিরে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দেয় । তিনি লিখেছিলেন,”আজ সকাল ৫ টা নাগাদ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালাল আমার বাড়িতে। মোটর বাইকে করে এসে মদের বোতল ছুঁড়ে জানলা র কাঁচ ভেঙে পালিয়ে গেছে ৷ অল্পের জন্য আমার কাজের সহায়িকা বেঁচে গেছে।”
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিকাশের ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ নিয়ে আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি জনসভা থেকে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানান যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শব্দটি ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে বিকাশরঞ্জনবাবুকে।মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সেই ডেডলাইন শেষ হয়েছে গতকাল, রবিবার। কিন্তু বিকাশ রঞ্জন নিজের পোস্ট থেকে হিন্দুত্ববাদী শব্দটি মুছে ফেলেননি। উলটে এক টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি সাফাই দেন,’আমি কেন পোস্ট থেকে ওই শব্দটা ডিলিট করব? অপরাধ করেছে ওরা। হিন্দুত্ববাদ প্রকৃতপক্ষে একধরনের গুন্ডামির তত্ত্ব। আর হিন্দুত্ব বহুত্ববাদ, সকলকে গ্রহণের তত্ত্ব। ওরা প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মেরই বিরোধী।হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ব দু’টি পরস্পর বিরোধী জিনিস। হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করছে হিন্দুত্ববাদ। যাঁরা যথার্থ হিন্দু তাঁদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের সম্পর্ক থাকতে পারে না।’ তাই শব্দটি তিনি প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি ।
যদিও বিকাশের এই সাফাই তেমন কাজে আসছে না । মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি খবরের কাগজে লেখা “গেরুয়া তান্ডব”-এর মতই বিকাশের “হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা” মন্তব্য কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না । কোনো ভাবেই সনাতনের অপমান সহ্য করবে না রাজ্য সরকার ।
এদিকে বীরভূমের বোলপুর থানায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে । অভিযোগটি দায়ের করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য সৌরীশ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন,’একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের বাড়িতে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অনভিপ্রেত। কিন্তু তার পরক্ষণেই উনি সোশাল মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা হামলা চালিয়েছে।’ তদন্ত ছাড়া বিকাশবাবু কীভাবে হিন্দুত্ববাদীদের দাগিয়ে দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই সদস্য। এর আগে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় বিকাশ রঞ্জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর কুমার গুছাইত । গত শুক্রবার অভিযোগ দায়েরের পর গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে সিপিএম নেতাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভও দেখান তারা ।।

