এইদিন ওয়েবডেস্ক,সুরাট,১৪ এপ্রিল : গুজরাটের সুরাট শহরের লাভ জিহাদের পর এবার ‘জিম জিহাদ’-এর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যা পুরো শহরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিটি লাইট এলাকার একটি সুপরিচিত জিমে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত এক ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী এক বিবাহিত হিন্দু মহিলাকে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলেছিল। জানা গেছে, ভুক্তভোগী মহিলা গত সাত বছর ধরে ‘পূজা এল ওয়ান’ জিমে ব্যায়াম করতে যেতেন। এই সময়ে, জিমের প্রশিক্ষক শাব্বির আজগর ট্রাঙ্কওয়ালা নানা রকম লোভ ও প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর অভিযুক্ত ওই বিবাহিত মহিলার স্বামীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে।
অভিযুক্ত শাব্বির মহিলার স্বামীকে তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে সে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিণীতার (ভুক্তভোগী মহিলা) ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল করে এবং সমাজে তার বদনাম করার হুমকি দিয়ে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। অসহায় স্বামী অভিযুক্তকে তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমে স্বামী ভয়ে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকাও দিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও লোভী প্রশিক্ষকের ক্ষুধা মেটেনি এবং সে বাকি ৪.৫ লক্ষ টাকার জন্য চাপ ও হুমকি দিতেই থাকে।
জানা গেছে,এই মামলার মোড় ঘুরে যায় যখন সুরাট এসওজি পুলিশের নেওয়া একটি কঠোর পদক্ষেপের প্রভাব দেখা যায়। উল্লেখ্য, গত ৯ই মার্চ পুলিশ শহরের সমস্ত জিম অপারেটর এবং প্রশিক্ষকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিল, যেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে প্রশিক্ষকদের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং মহিলাদের সাথে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এই বৈঠকের ভিডিও এবং জনসচেতনতামূলক বার্তা দেখে ভুক্তভোগীর স্বামী সাহস পান। তিনি অবিলম্বে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং জিম প্রশিক্ষক শাব্বির ট্রাঙ্কওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।।
