এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৬ নভেম্বর : ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন ঘিরে এখনো অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে । পরামর্শ পর্ব শেষে গাদি আইজেনকোট (Gadi Eisenkot) ৬৭টি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ৪৬টি সুপারিশ পেয়েছেন, তবে প্রেসিডেন্ট হারজোগ এখনও সরকার গঠনের দায়িত্ব (ম্যান্ডেট) কাউকে প্রদান করেননি। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন, আইজেনকোটের জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। আপাতত নেতানিয়াহুই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমতবস্থায় আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর জোট ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই । কারন আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে কেউ আগ্রহী নয় ।
এদিকে আইজেনকোট এমন সব শর্ত দিচ্ছেন যা তাঁর নিজের জোট গঠনকেই অসম্ভব করে তুলছে । গাদি আইজেনকোট তাঁর সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য চারটি শর্ত পুনর্ব্যক্ত করছেন, যেগুলোর বিষয়ে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। সমস্যাটি হলো, জোট গঠনের জন্য তাঁর যাদের প্রয়োজন হতে পারে, তাদের মধ্যে কিছু দলের অবস্থান এই দাবিগুলোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আরব দলগুলোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে মেনে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, হারেদি (অতি-অর্থোডক্স ইহুদি) দলগুলোর ক্ষেত্রে সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা চালুর শর্তটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাহলে ইসরায়েলের পরিস্থিতি এখন কী দাঁড়াল? রাজনৈতিক ওয়াকিবহালদের মতে দুটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি রয়েছে: ১. আরও একটি নির্বাচন। জোট গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হওয়া, কারণ দলগুলো তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারছে না। ২. বেনেটের নেতানিয়াহুর শিবিরে যোগ দেওয়া। নাফতালি বেনেট হয়তো নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, যেখানে তিনি হয়তো প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেন। দ্বিতীয় পরিস্থিতিটি কেবলই একটি অনুমান, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়। আইজেনকোটের পক্ষে হয়তো ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সরকার গঠনের সুপারিশ করেছেন, কিন্তু সুপারিশ থাকা আর ৬১ জন আইনপ্রণেতার একসঙ্গে সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত থাকা—এক বিষয় নয়।
আইজেনকোটের পক্ষে সরকার গঠনের সুপারিশকারী আইনপ্রণেতার সংখ্যা ৬৭ জন হতে পারে, কিন্তু এই সুপারিশ আর একসঙ্গে সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত ৬১ জন আইনপ্রণেতার উপস্থিতি—এক বিষয় নয়। প্রশ্নটি এটি নয় যে কার হাতে ম্যান্ডেট বা জনরায় রয়েছে। আসল প্রশ্ন হলো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বিসর্জন না দিয়ে কে প্রকৃতপক্ষে সরকার গঠন করতে সক্ষম। আর এখানেই ঝুলে আছে ইসরায়েলের ভাগ্য ।।

