এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),১৪ জুন : শাসন ক্ষমতায় থাকার সময় সীমাহীন দুর্নীতি আর বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে । পালাবদলের পর এখন তৃণমূলের ওই সমস্ত নেতাকর্মীদের পড়তে হচ্ছে গনরোষের মুখে । পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের তৃণমূল নেতাকর্মীদের এখনো পর্যন্ত সেভাবে গনরোষের মুখতে হয়নি । তবে আজ রবিবার ভাতারের বড়বেলুন, বানেশ্বরপুর, এরুয়ার প্রভৃতি গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা থানায় এসে ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর, জরিমানা আদায় এবং সরকারি আবাস যোজনায় কাটমানি আদায় প্রভৃতি একরাশ অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে একটা গন ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন । দাবি জানানো হয়েছে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নেওয়া কাটমানি আদায় করে দিতে হবে পুলিশকে । এরুয়ার অঞ্চলের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশীল ঘোষ ভাতারের প্রাক্তন বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর বিরুদ্ধে এক প্রৌঢ় সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে পৃথকভাবে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তাকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। সেই সময় গোয়ালের গরু সহ ৬ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সামগ্রী লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ ।
বানেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিজেপির বুথ সভাপতি সেখ আজিবর রহমানের অভিযোগ, ‘বিজেপির বাইক মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য আমাকে গাছে বেঁধে পেটানো হয়েছিল । তখন থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি৷’ সেই হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আবাস যোজনা প্রকল্পে গরিব উপভোক্তাদের কাছ থেকে তৃণমূল নেতারা যে কাটমানি আদায় করেছিল সেই টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি ।
বিজেপির নেতা বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার হাজরার অভিযোগ,’২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বড়বেলুন গ্রামে ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভাঙচুর, জরিমানা আদায় সহ বহু মহিলার উপর নির্যাতনের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছিল। সেসময়েও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় কোনও মানুষ বিচার পাননি। তাই এখন তাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে ।’
শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশীল ঘোষের অভিযোগ, ‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমি বিজেপির ইলেকশন এজেন্ট হয়েছিলাম৷ আর সেই অপরাধের কারনে ভোটের ফল ঘোষণার আমাকে সপরিবারে ঘরছাড়া করা হয় । দফায় দফায় জরিমানা আদায় করে তবেই ঘরে ফিরতে দেওয়া হয়েছিল । এছাড়া গোয়ালের গরু লুট করার পাশাপাশি বাগানবাড়ির লক্ষাধিক টাকার গাছপালা নষ্ট করা হয়েছে। সব মিলে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল আমাকে ।’ তিনি সেই টাকা ফেরতের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রবীণ ওই বিজেপি কর্মী।
এদিন বড়বেলুন গ্রাম সহ অঞ্চলের কয়েকজন তৃণমূল নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এরুয়ার অঞ্চলের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশীল ঘোষ ভাতারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী সহ দুজনের বিরুদ্ধে ভাতার থানায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে ।।
