এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩০ এপ্রিল : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দু’ফফার ভোট সম্পূর্ণ । বুথ ফেরত সমীক্ষা গতকালই সামনে চলে এসেছে৷ মূল ধারার সমীক্ষাকারী সংস্থাগুলি ভবিষ্যৎবাণী করেছে যে এরা যে এরাজ্যে ক্ষমতার বদল হতে চলেছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি । ভূত ফেরার সমীক্ষা সামনে আসার পর এই প্রথম মুখ খুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তিনি দাবি করেছেন যে শেয়ার বাজারের ধস আটকাতে টাকা দিয়ে এক্সিট পোল করিয়েছে বিজেপি৷ সেই সাথে তিনি ২৩০ আসনে জিতে ফের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করতে চলেছে বলেও দাবি করেন ।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মমতা ব্যানার্জির একটা ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এসেছে । সেই বার্তায় তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেছেন, ‘যারা কেন্দ্রীয় বাহিনী, এখানকার ফোর্স এবং অর্থভাণ্ডার দিয়ে আপনাদের জব্দ করতে চেয়েছিল, তারা ভোট বাক্সে জব্দ হয়ে গেছে । আমি এটা নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা দেখাচ্ছে(এক্সিট পোল) সেটা বিজেপি অফিস থেকে করানো । কালকে বেলা একটায় সার্কুলেট করেছে এবং টাকা দিয়ে করেছে, যাতে এটা দেখানো হয় ।’
‘তার কারণ হচ্ছে, আমাদের কাছে স্পেসিফিক ইনফরমেশন আছে, আমি একটা মিডিয়ায় খুঁজে পেয়েছি, সেই ইনফরমেশনের স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তারা পরিষ্কার বলছে ফোর্সফুলি তোমাদের এটা করতে হবে । কারণটা আসলে জানেন আপনারা ?’
মমতা দাবি করেন,’আমরা ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি । ২০২৬-এ ২০০ ক্রস করব । মানুষকে বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে, তাদের প্রতি পুরো আস্থা-ভরসা-বিশ্বাস আমার আছে ।’
তিনি বলেন,’ওরা কালকে এটা প্রেসকে দিয়ে করিয়েছে, গোদি মেডিয়া কে দিয়ে, তার কারণ হলো…আপনারা তো সবাই জানে ওরা ইডি,সিবিআই সবাইকে দিয়ে চমকায়৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহারগুলো করেছে… যে পুলিশগুলো আমাদের হাতে ছিল না তাদেরও ব্যবহার করেছে….বাচ্চা মেয়েদের পর্যন্ত মেরেছে….যে ভদ্রলোক উদয়নারায়নপুরে ভোট দিতে গিয়ে মারা গেছে…..তার শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই ।’
‘তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী এমনকি সাংবাদিকদের কে ওরা মেরেছে । বাচ্চাদেরও মেরেছে, মহিলাদেরও মেরেছে । একতরফাভাবে মেরেছে। যারা তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করেছে মার খেয়েও যাননি, অ্যারেস্টও করা হয়েছে… যাতে তারা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে না পারে । বিশেষ করে ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, এরকম অনেকগুলো জায়গা আছে। এমনকি আমাদের ভবানীপুরে ও সারারাত ধরে রেড হয়েছে । আমি দু’রাত ঘুমাইনি । ‘
‘তাই আপনাদের কাছে বলব, এটা বিজেপির চক্রান্ত । বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই বিজেপি প্রেসকে দিয়ে শেষ খেলাটা খেলেছে । যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মী এবং মানুষের মনোবল ভেঙে যায় আমাদের কর্মী এবং মানুষের মনোবল ভেঙ্গে যায় । শেয়ার বাজারে ধস নামবে, আসল সত্যিটা বের হলে । আমার কাছে স্পেসিফিক খবর আছে, শেয়ার মার্কেট কে সান্তনা দিতে গিয়ে এইটা করেছে ।’
মমতা বলেন,’ আমি পরিষ্কার বলছি, ২০১৬ তেও একই জিনিস হয়েছে । ২০২১-এও একই জিনিস হয়েছে । এক্সিট পোল যা দেখিয়েছে পুরোটাই বিজেপির কথায় । আপনারা তো জানেন ভারতে নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই, সব এক পক্ষ হয়ে গেছে । আমি সাধারণ মানুষকে বলব আমাদের কর্মীদের যেন পাশে থাকে । তারা যেন আজ রাত থেকে গণনা কেন্দ্রে পাহারা দেয় । আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামবো । ২৯৪ টা কেন্দ্রের সবাইকে বলব, নিজের নিজের কেন্দ্রে পাহারা দিন । দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, রাতের বেলায় নিজেরা থাকুন । তবে পাহারা দিন । আমি যদি পাহারা দিতে পারি আপনারাও দিতে পারবেন । রাত জাগুন । সকালে এসে অন্য টিপকে হ্যান্ড ওভার করে তবেই ঘুমোবেন । কারণ ইভিএম মেশিন কে ওরা যখন স্টোররুম থেকে কাউন্টিং হলে নিয়ে যাবে তখন কিন্তু মেশিন বদলে দেওয়ার প্ল্যান ওরা করেছে । সুতরাং নজর রাখতে হবে কোনরকম নেগ্লিজেন্স যেন না হয় । অবহেলা করবেন না ।’
তিনি বলেন,’আর কাউন্টিং এমন যোগ্য লোককে দিয়ে করবেন, আমি যতক্ষণ প্রেস কনফারেন্স করে না বলব ততক্ষণ কেউ কাউন্টিং কেবিন ছাড়বেন না । এবং মনে রাখবেন টেবিলে যেটা কাউন্ট হয় কম্পিউটারে আপলোড করার সময় সেটা ওরা চেঞ্জ করে দিতে পারে । মানে আমাদেরটা বিজেপিকে এবং বিজেপিটা আমাদেরকে দিয়ে দিতে না পারে । সেই দিকে নজর দিন সতর্ক থাকুন৷’
তিনি বলেন,’আমি নিজেও কাউন্টিং হলে হানা দেব৷ কারণ প্রার্থী হিসেবে আমি যেতেই পারি । সমস্ত প্রার্থীরা থাকবেন । যখন কেউ বাথরুমে বা খাবার খেতে যাবেন তখন এমন একজন বিশ্বস্ত কাউকে বসিয়ে রাখবেন যাতে টাকা দিয়ে কিনতে না পারে । এত কষ্ট করেছেন এটুকু কষ্ট করতে হবে বাংলা মায়ের জন্য । বাংলার মানুষকে বাঁচানোর জন্য৷ বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার ।’
মমতা বলেছেন,’আর একটা কথা বলি, সবাই শান্ত থাকবেন সংযত থাকবেন৷ দিদির প্রতি ভরসা রাখুন বাংলার মানুষের প্রতি ভরসা রাখুন । আমাদের মা মাটি মানুষের সরকারই আমরা গঠন করছি এবং করব । নিশ্চিন্তে থাকুন । নিশ্চিন্তে শান্তভাবে সংযত ভাবে থাকুন । ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলাতে যাবেন না। কাল রাতে অনেক জায়গায় মারধর, করেছে অত্যাচার করেছে । আমাদের কর্মীদের যেভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে এর জবাব আগামী দিন দিতেই হবে।এর জন্য আমরা ব্যবস্থা নেব । আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই ।’
রাজ্য প্রশাসনকে সতর্ক করে তিনি বলেন,’আর আমি প্রশাসনকে বলবো, আপনারা বিজেপির কথায় অনেক খেল দেখিয়েছেন, দয়া করে কাউন্টিং হলে আমাদের ছেলেদের গায়ে, মানুষের গায়ে বা কোন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের গায়ে হাত দেবেন না । অনেক পিটিয়েছেন, আর নয় । অনেক অত্যাচার করেছেন । বাংলা আপনাদের নয় । বাংলা মা মাটি মানুষের,বহিরাগত নয় । বিজেপির নিজস্ব কোন এজেন্ট বুথে নেই । বিজেপি সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করিয়েছে এবং অমিত শাহের ডাইরেক্ট ইন্টারফেয়ারেন্সে । এটা করা যায় না ।’
তিনি বলেন,’প্রধানমন্ত্রী কাল সাড়ে চারটের সময় ভোট চলাকালীন বললেন কি করে যে গোটা বাংলাটা ওনার ? আপনি বাংলাকে চেনেন, বাংলার মাটি কে চেনেন ? রবীন্দ্র, নজরুল কে চেনেন ? নেতাজি কে চেনেন ? গান্ধীজি কে চেনেন ? রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগরকে চেনেন ? কাউকে চেনেন না । শুধুমাত্র কানে কানে কথা বল । আর মিথ্যা কথা বলে অপপ্রচার কর । টাকার ভান্ডার নিয়ে কাউকে কাউকে ৩০০০ টাকা করেও দিয়েছে বলে আমার কাছে খবর আছে৷ আর ভান্ডারের নামে টাকা দিয়েছে । যারা টাকা নিয়েছেন তারা খুব ভুল করেছেন । তবুও মনে রাখবেন আমরা নিশ্চয়ই আপনাদের ভুল বুঝব না । ভোট যাকেই দিয়ে থাকুন অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়াটা ঠিক নয় । তবে আমার বিশ্বাস আছে আপনারা সঠিক দায়িত্ব পালন করার জন্য আগামী দিনে বাংলাকে রক্ষার্থে ।’
সব শেষে মমতা ব্যানার্জি বলেন,’আমি নিশ্চিত করে বলে যাচ্ছি মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ, মা-মাটি-মানুষ ধন্যবাদ, তৃণমূল কংগ্রেস ধন্যবাদ, তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ, জোড়া ফুল জিন্দাবাদ এবং জয় বাংলা । গলার জয় হবেই । বাংলা পড়বে জয়৷ বাংলার মা করবে জয় । আম্মা করবে জয় । মাদার করবে জয় । বাংলার মা মাটি মানুষের হবে জয় । এটুকু বিশ্বাস আপনার আমার প্রতি রাখতে পারেন৷’।
