এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ জুলাই : ঘুঁষ দিতে অস্বীকার করায় একটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ উঠেছিল পশ্চিম বর্ধমান জেলার রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে । ট্রাক চালক ঘটনার মুহুর্ত ফেসবুক লাইভ করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন। অবশেষে অভিযুক্ত মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর (এমভিআই) নাজিমুল হক এবং অনুপম ব্যানার্জীকে পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ এবং আপিল) বিধিমালা, ১৯৭১-এর বিধি ৭(১)(ক) অনুসারে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) পরিবহন ভবন থেকে দপ্তরের স্পেশাল সেক্রেটারির স্বাক্ষরিত নির্দেশের কপিটি এক্স-এ শেয়ার করে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা: আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রশাসন, বিভাগ বা সরকারের যেকোনো স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর “শূন্য সহনশীলতা নীতি” বজায় রাখে। কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং আমরা আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে শুদ্ধ করার জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত উপাদানগুলিকে নির্মূল করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ঘটনার বিবরণ ও বিভাগীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন,’ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ: পণ্যবাহী ট্রাক নং JH09BA3535 (মালিক: দীপক সিং, চালক: শিব যাদব), সার্ভিসিং করিয়ে গ্যারেজে ফেরার পথে, পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্মকর্তারা ট্রাকটিকে অন্যায়ভাবে আটক করে। চালককে অবৈধভাবে হয়রানি করা হয় এবং ঘুষের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি অস্বীকার করলে, গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক ইতিমধ্যে বিলুপ্ত একটি কর বাবদ ₹২২,০০০ টাকার একটি বেআইনি দাবি করা হয়।
গৃহীত পদক্ষেপ – চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত অভিযুক্ত মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর (এমভিআই) – শ্রী নাজিমুল হক এবং শ্রী অনুপম ব্যানার্জীকে পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (শ্রেণিবিন্যাস, নিয়ন্ত্রণ এবং আপিল) বিধিমালা, ১৯৭১-এর বিধি ৭(১)(ক) অনুসারে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।পুঙ্খানুপুঙ্খ ফৌজদারি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য অভিযোগগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)-তে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন,’অন্যায়ভাবে আটক করা যানবাহনগুলি যাতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরিবহনকারীদের হয়রানি যাতে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশাবলী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ এরপর তিনি ‘একটি কঠোর সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলেছেন,’এটি প্রশাসনের সকল স্তরের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে থাকুক। কোনো কর্মকর্তাকে দুর্নীতি, হয়রানি বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণে জড়িত পাওয়া গেলে, তাকে সম্ভাব্য কঠোরতম শাস্তিমূলক এবং আইনি পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। আমরা একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’।
