এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ সেপ্টেম্বর : একটি উর্দু দৈনিকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসাবে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাড়ি ও অফিসে রাতভর তল্লাশি অভিযান চালালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি) । সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হয় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ। এই মামলাটি তৃণমূল সাংসদের একটি উর্দু সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। গত অগস্ট মাসে এই সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক অনিয়মের একটি অভিযোগও দায়ের হয়েছিল।
ইডি কর্মকর্তাদের মতে, ৫৬ বছর বয়সী নাদিমুল হক উর্দু দৈনিক ‘আখবার-ই-মাশরিক’ প্রকাশকারী আখবার-ই-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেডের একজন পরিচালক। তারা জানান, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে এই মামলাটি করা হয়েছে।সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তদন্তটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো সামগ্রী প্রকাশ ও প্রচার, ‘হিসাব বহির্ভূত’ নগদ লেনদেন এবং দৈনিকটির জন্য সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংস্থার কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমটি সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য তার প্রচার সংখ্যা ‘অতিরঞ্জিত’ করেছিল এবং দুবাই-ভিত্তিক একটি সংস্থার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার মাধ্যমে পূর্বতন তৃণমূল নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে ‘অধিকাংশ’ তহবিল পেয়েছিল।
ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে ৬০ কোটি টাকার লেনদেনে ব্যাপক গরমিল (Illegal financial transactions) এবং তার সপক্ষে কোনও সন্তোষজনক নথি পাওয়া যায়নি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এর পেছনে হাওয়ালার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তল্লাশির সময় একটি পুরোনো মোবাইল ফোন ও ট্যাব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেখানে দলের নির্বাচনি সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত মাসে বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকাল থেকে কলকাতা, দিল্লি এবং রাঁচীতে তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকেরা। সব মিলিয়ে আটটি ঠিকানায় অভিযান চলছিল। প্রতিটিই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। পার্কসার্কাসে সাংসদের সংবাদপত্র অফিস ও বাসভবন সহ দিল্লি এবং রাঁচির মোট সাতটি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময় রাঁচিতে থাকা নাদিমুল হককে রাতেই কলকাতায় আনা হয় এবং তাঁকে সঙ্গে রেখেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ইডির অভিযান শেষ হয় আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ।
এদিকে এই তল্লাশিগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আমরা সবাই ইডির জবাবদিহিতা সম্পর্কে জানি, কিন্তু আমরা বিজেপির ‘ ফালতু ‘ ইঞ্জিন সরকারকে উন্মোচন করতেই থাকব ।”তিনি আরও বলেন, “এটি একটি নির্ভেজাল প্রতিহিংসা এবং দিল্লির ভবন ধসে নিহত শিক্ষার্থীদের ঘটনা থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি বেপরোয়া সরকারের লক্ষণ। সরকার শিক্ষার্থীদেরই সামলাতে পারে না, বিরোধী দলগুলোকে কীভাবে সামলাবে?” তিনি বলেন, “নাদিমুল হক একজন মুসলমান বলে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বাংলায় বিজেপিও একই কাজ করছে। আমরা এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে চিঠি লিখব।”

