২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন ডিপ স্টেটের প্রত্যক্ষ মদতে বাংলাদেশে জিহাদি অভ্যুত্থানের পর ব্যাপক ভারত বিদ্বেষ কাজ করছে বাংলাদেশে । পাশাপাশি ভারতের শত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তান-চীন-তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তারা । বাংলাদেশের জিহাদি গোষ্ঠী এমনকি ভারতের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবিও জানাচ্ছে । তারপরেও ভারত এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি । ভারত ভালোভাবেই জানে যে, চিকিৎসা, খাদ্যসামগ্রী,বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ রূপে ভারতের উপরেই নির্ভরশীল । এমতবস্থায় নয়াদিল্লি যদি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বাংলাদেশ না খেতে পেয়ে শেষ হয়ে যাবে । কিন্তু ভারত যদি সত্যি সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় তাহলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরিনতি কি হতে পারে ? এর একটা বিশ্লেষণাত্মক (Analytical) উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশের ফেনী জেলা মহিলা শ্রমিকলীগ সভানেত্রী মোরশেদা আক্তার মিয়াজী (Morseda Akter Miazi) । সোশ্যাল মিডিয়ায় তার লেখা একটা দীর্ঘ পোস্ট নিচে অবিকল তুলে ধরা হল :
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বাংলাদেশকে নেপাল ও ভুটান দুটি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের কারণে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে থাকা বিহারের সঙ্গেও বাংলাদেশের কোন সীমান্ত নেই। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত আর অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর ।এই বাস্তবতা ও জিওগ্রাফী কোন অলৌকিক ক্ষমতার বলে আপনি পাল্টাতে পারবেন না।
ভারতের মেঘালয়ের উচ্চতা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫০০ মিটার উঁচুতে।মেঘালয়ে হালকা বৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের ভেতর বন্যা হয়ে যায় প্রাকৃতিকভাবে।মেঘালয় নিয়ে বলা হয় – ‘মেঘালয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানে একটি বহুতল ভবনের ছাদের উপর দাঁড়িয়ে থাকা। নীচের যে সমতল ভূমি দেখা যায় তাই আমাদের বাংলাদেশ।”
অর্থাৎ মেঘালয়ের জনগণ হি___ করলে তা গড়াতে গড়াতে বাংলাদেশে আসবে।এটাই প্রকৃতির নিয়ম। প্রকৃতির এই নিয়মকে কোন আবাবিল পাখি পাল্টাতে পারবে না।
চীনের তিব্বতের মতো কোন ম্যাসিভ ল্যান্ডসলাইড ভারতের মেঘালয় সীমান্তে হলে তাতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর গতিপথ বন্ধ হয়ে নেপালের মতো কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি হয়ে সমগ্র বাংলাদেশের উপর ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে।সিলেট , সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার মতো এলাকাগুলো জলের নীচে তলিয়ে যাবে।এতে নেপালের মতো কাঁদা , পাথর ও মাটির ভয়াবহ এক গজব দেখতে পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একদল আহম্মকের কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও গজব।
মেঘালয় বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ৬ হাজার ফুট উঁচুতে। ভারত সেখানে ৮-৯ টি জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করেছে। যেমন বাংলাদেশ কাপ্তাই বাঁধ করেছে। এখানে কোনদিন ফ্লাশ ফ্লাড হলে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ , সিলেট সহ বেশকিছু অঞ্চল মাত্র কয়েক ঘন্টায় জলের নীচে তলিয়ে যাবে। বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের মেঘালয় তীব্র ভূমিকম্পের ( Zone 5) ঝুঁকিতে আছে। তাই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক না রেখে “দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান দিলে গজব আসমান থেকে নয় , বরং সরাসরি মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে নেমে আসবে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
বাংলাদেশের ৫৭ টি নদীর মধ্যে ৫৪ টি নদীর গতিপথ হচ্ছে ভারতে । বাংলাদেশের মোট জলের প্রায় ৯৪ শতাংশ জল ভারত থেকে আসে। ভারতের গঙ্গা বাংলাদেশের মধ্যে পদ্মা ,, ও ব্রহ্মপুত্র থেকে বাংলাদেশের যমুনা ও মেঘনা ব মিলিয়ে এই নদী অববাহিকার মাত্র ৬-৭ শতাংশ বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের জিওগ্রাফী ( ভুগোল) না পড়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিতে দিতে এই দেশ একদিন পাকিস্তান সায়েদাবাদ হয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের কোন স্থল , আকাশ ও সমুদ্র সীমা নেই। আকাশের দিকে তাকিয়ে সারাদিন দোয়া দরুদ পড়লেও এই বাস্তবতা পরিবর্তন সম্ভব নয়। মায়ানমারের সাথে মাত্র ২৭১ কিলোমিটার সীমানা ছাড়া বাংলাদেশের ৪১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভারতের সাথে।মক্কা চুক্তি , আমেরিকার সাথে reciprocal trade agreement যত কিছুই করা হোক প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমার ও ভারত পাল্টানো কোনদিনও সম্ভব নয়।আর ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করার স্বপ্ন একদল উন্মাদের ৭৯ বছর পুরোনো পাকিস্তানের স্বপ্নদোষ ছাড়া আর কিছুই নয়।
পৃথিবীতে যদি কোনদিন যুদ্ধ শুরু হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর কোন কারণে অচল অথবা ব্লক হয়ে যায় তবে ভারত তাদের স্থলবন্দর কলকাতা দিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা না করলে আসমানের দিকে তাকিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিলেও কোন কাজে আসবে না। বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে ভারতের উপর নির্ভরশীল।ভারত কোন কারণে বাংলাদেশের জন্য তাদের স্থল, জল ও আকাশসীমা বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের মানুষের মক্কা জিন্দাবাদ দিয়েও কোন কাজ হবে না। বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র যাওয়ার জায়গা বঙ্গোপসাগরের মাত্র ২৫ শতাংশ বাংলাদেশের হলে ভারতে তা ৭২ শতাংশ।আর বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করে বঙ্গোপসাগরের মাত্র ৫.৫ শতাংশ এলাকা।এটাই বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা।
তাই একদল কাউয়া বঙ্গোপসাগর কে বাংলাদেশের বাপ ও দাদার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে খুশিতে গদগদ হয়ে যখন শাপলা চত্বরে ” ভারত বয়কট ” স্লোগান ধরে তখন আমার খুব হাসি পায়।এই উন্মাদের দল বিশ্ব মানচিত্রে ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় তাও জানে না। এজন্য আমি সবসময় এই মানসিক রোগীদের উদ্দেশ্য করে বলি – ” যত বড় মুখ নয় ততবড় কথা।”
বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ জাহাজ বাণিজ্যিকভাবে ভারত মহাসাগর ব্যবহার করে। কোন কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হলে ভারত ভারত মহাসাগরে নেভাল ব্লকেড দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। এটা অনেকটা মহাপ্রলয় ও কেয়ামতের উদাহরণ হয়ে থাকবে। এভাবে মাত্র এক মাস যুদ্ধ হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিক প্রথমেই পথে বসে যাবে এবং ভেঙে যাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। সমগ্র বাংলাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়ে ব্লাকআউট হয়ে যাবে। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে কিছু আমদানি করাই সেভাবে সম্ভব হবে না। ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ পুরো বিশ্ব থেকে ল্যান্ডলকড হয়ে যাবে। পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিতে দিতে ইউনূস এটা ভুলে গেলেও আমেরিকা খুব ভালো ভাবেই তা অনুধাবন করেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সমগ্র বাংলাদেশ গভীর সংকটের মুখে চলে যাবে। বঙ্গবন্ধু এসব সত্য বুঝতে পেরেছিলেন। পাকিস্তানীরাও তাই বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে আমেরিকা ও চীনের সহযোগিতা নিয়েও ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ১৩ দিনও টিকতে পারেনি। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে শোচনীয় পরাজয়ের সাক্ষী হয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আত্মসমর্পণ ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর।এর মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশকে তাই চাইলে জঙ্গি , ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র করা যাবে , কিন্তু ইহজনমেও আর পাকিস্তান বানানো সম্ভব নয়। এটাই বাংলাদেশের ভৌগোলিক মানচিত্র।
প্রতিবেশীদের সাথে সবসময় সুসম্পর্ক রাখতে হয়। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। জিন্নাহ ও পাকিস্তান হলে আফগানিস্তানের সাথেও সম্পর্ক ভালো থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র আফগানিস্তানের সাথে যুদ্ধ করতে করতে পাকিস্তান এখন খয়রাতে পাকিস্তান। বাংলাদেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে – বাংলাদেশের আশেপাশে কোন মুসলিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেই। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক খারাপ রেখে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের টিকে থাকা ভৌগলিকভাবে অসম্ভব।তাই বাংলাদেশের মানসিক রোগীদের ” নিজেদের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ ” এর উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
সবশেষে তিনি লিখেছেন,’এজন্য বলা হয় – ” খালি কলসি বাজে বেশি ” ।’।
